“জ্ঞানেশ কুমার যাবেন, সরকারও যাবে!” সিজেপির বিক্ষোভ দমনে কেন্দ্রকে ধুয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ আন্দোলন এবং তা দমনে দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন কড়াকড়ি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। সংবিধান প্রদত্ত ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে একহাত নিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। একইসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, গণতন্ত্রের ভিত্তি পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এটি মাত্র প্রথম পদক্ষেপ।

যুবসমাজের প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা:
সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের ভোট দেওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে জয়রাম রমেশ বলেন, বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে সেই অধিকারটুকুও জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাইছে। এই জাস্টিস ও অধিকার রক্ষার তাগিদেই দেশের যুবসমাজ আজ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সামিল হতে চাইছে, কিন্তু সরকার ভয় পেয়ে তা কঠোর হাতে দমন করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই যুব প্রতিবাদ দেখে গভীরভাবে বিচলিত ও শঙ্কিত বলেই অভিযোগ করেছেন তিনি। সেই ভীতি থেকেই রাজধানীর রাস্তাঘাট মুড়ে ফেলা হয়েছে সশস্ত্র নিরাপত্তায়, দিল্লিকে একপ্রকার দুর্গে পরিণত করা হয়েছে।

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ:
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে জয়রাম রমেশ বলেন, সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশই বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করে আসছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যখন ১৪৫ জন বিরোধী সাংসদকে সংসদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তখন সংসদে জোরপূর্বক তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার আইন পাশ করানো হয়েছিল। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের কাছেও মিথ্যা বলার অভিযোগ তুলে জয়রাম রমেশ দাবি করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এখন সময়ের দাবি এবং এটি একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামনে আরও বড় লড়াই ও এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ:
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতার মন্তব্য, এটি গণতন্ত্রের স্তম্ভ পুনরুদ্ধারের পথে কেবল প্রথম ধাপ। দেশের গণতন্ত্রকে মজবুত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আরও বড় লড়াইয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এর পাশাপাশি অবিলম্বে বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধেরও জোরালো দাবি তোলেন তিনি। জয়রাম রমেশের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

রাহুল গান্ধীর হুংকার:
এদিকে সিজেপির আন্দোলন এবং দিল্লি পুলিশের ধরপাকড় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “জ্ঞানেশ কুমার যাবেন, এই সরকার যাবে, এবং তারপর গণতন্ত্রের মেরামত শুরু হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে কংগ্রেস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং ভোটাধিকার লুঠের চক্রান্ত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনোভাবেই চুপ থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *