মহুয়া মৈত্রকে ১০ কোটির মানহানির নোটিস! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে বড় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং প্রশাসনিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা। রাজ্যের মুখ্যসচিব তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগে এবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে কড়া আইনি নোটিস পাঠানো হলো। নোটিসে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি ডিলিট করার পাশাপাশি নিঃশর্তভাবে লিখিত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বড়সড় আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
সম্প্রতি এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেখানে সুব্রত গুপ্ত ও মনোজ আগরওয়ালের ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লেখা হয়েছিল, “এরাই বাংলার এসআইআরের সবথেকে বড় কারিগর। সব ধরনের অবৈধ কাজ করেছেন এঁরা। কেউ বাঁচতে পারবে না এঁরা।” এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক শোরগোল।
তীব্র আপত্তি জানিয়ে সেই সময়ই মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এনাফ ইজ এনাফ। লিগাল টিমের সঙ্গে কথা বলে ডিফেমেশন কেস করা হবে। সিইও কখনই কোনো নাম যুক্ত করতে বা বাদ দিতে পারে না।” তাঁর দাবি, তিনি কোনো ভোট চুরি বা বেআইনি কাজ করেননি; বরং আইন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই নিজের সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। মহুয়ার এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তাঁর সততা, পেশাগত দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
আইনি নোটিসের কড়া শর্ত ও ক্ষতিপূরণ:
মুখ্যসচিবের পাঠানো আইনি নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নোটিস পাওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহুয়া মৈত্রকে তাঁর বিতর্কিত দুটি পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলতে হবে এবং নিঃশর্তভাবে লিখিত ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের মানহানিকর মন্তব্য আর প্রকাশ করবেন না মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে। এর পাশাপাশি মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ কোটি টাকা এবং আইনি খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নোটিসের সন্তোষজনক জবাব না মিললে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে জোরালো পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মহুয়ার প্রতিক্রিয়া:
এদিকে মুখ্যসচিবের এই আইনি নোটিস এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির হুমকিকে যে তিনি খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এই আইনি পদক্ষেপকে তোয়াক্কা না করার সুরেই নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে, এই আইনি লড়াই এখন কোন মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।