“মা ইলিশের ‘সংসারে’ বন্দুকধারী পাহারা!”-বাংলাদেশ নৌসেনা নামাল তারেক রহমান সরকার

ইলিশের এখন ভরপুর প্রজনন-কাল। আর এই বিশেষ সময়ে মা ইলিশের ‘পরিবার পরিকল্পনা’ ও প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে কঠোর পদক্ষেপ করল প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেদার ইলিশ শিকার রুখতে এ বার নদী, সমুদ্র এবং উপকূলীয় এলাকায় খোদ নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে তারেক রহমানের সরকার। মশা মারতে কামান দাগার মতো এই পদক্ষেপে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।
২২ দিনের মেগা নিষেধাজ্ঞা ও নৌসেনার কড়া পাহারা
ইলিশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশজুড়ে ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। শুরু হয়েছে সরকারি ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। কিন্তু বারবার নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে একশ্রেণির জেলের জাল ফেলার প্রবণতা থামানো যাচ্ছিল না। জেলের দলের সেই উৎসাহে লাগাম পরাতেই মাঠে নামানো হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।
বর্তমানে সমুদ্র ও উপকূলীয় জলসীমায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে নৌবাহিনীর জাহাজ এবং মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট। মাছ ধরার কোনো ট্রলার নদী বা সাগরে নামলেই সতর্ক করে দিচ্ছে বন্দুকধারী বাহিনী। প্রশাসন সূত্রে খবর, মোট ৯টি জেলায় ২৪ ঘণ্টা ধরে এই কড়া টহলদারি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাতের অন্ধকারেও জাল ফেলার কোনো জো নেই।
যৌথ অভিযান ও কড়া হুঁশিয়ারি
শুধু নৌবাহিনী একাই নয়, এই বিশেষ অভিযানে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ এবং মৎস্য দপ্তরও। প্রশাসনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের মূল লক্ষ্য একটাই—মা ইলিশ যেন কোনো রকম বাধার মুখে না পড়ে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে। ইলিশের এই প্রেমপর্বে কেউ যাতে জাল ফেলে জল ঘোলা করতে না পারে, তার জন্যই এই কড়া ব্যবস্থা। আপাতত মা ইলিশের এই বিশেষ সংসারে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা ইলিশ নিরাপদে বংশবিস্তার করলে আগামী দিনে সুস্বাদু এই মাছের জোগান আরও সমৃদ্ধ হবে।