২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা! আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি পেলেন কে?

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই-কে। নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, শান্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে তাঁর আজীবন অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপই তাঁকে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর তা পাননি।
কে এই নাভি পিল্লাই?
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্মগ্রহণকারী নাভি পিল্লাই বর্ণবৈষম্য (Apartheid) যুগের চরম বৈষম্য ও অবিচারের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। পরবর্তীকালে তিনি আইনজীবী এবং বিচারক হিসেবে নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা বহু ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি তিনি রুয়ান্ডা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক, দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি ধারাবাহিকভাবে জোরালো প্রশ্ন তুলে এসেছেন।
যেসব কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই:
নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থায়ী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল সামরিক শক্তি বা বড় দেশের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়; বরং আইন, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতাই হলো শান্তির মূল ভিত্তি। নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ বর্ণময় কর্মজীবন এই আদর্শের ওপরই প্রতিষ্ঠিত:
১. যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার প্রতিটি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।
২. রুয়ান্ডা গণহত্যায় ঐতিহাসিক রায়: রুয়ান্ডা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে তিনি এমন কিছু যুগান্তকারী আইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছিল।
৩. ঘৃণা ভাষণ ও উস্কানির বিচার: প্রচার বা প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে গণহত্যা