মাঠে কাজ করার সময় ভয়ঙ্কর আক্রমণ! হরিদ্বারে বুনো হাতির পদাঘাতে মর্মান্তিক মৃত্যু কৃষকের

সন্ধ্যায় নিজের জমিতে কাজ করার সময় এক বন্য হাতির অতর্কিত ও নৃশংস আক্রমণে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো এক কৃষকের। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের শ্যামপুর বন রেঞ্জের অন্তর্গত বাহার পিলি গ্রামের কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। সজনপুর বিটের একটি ব্যক্তিগত কৃষি জমিতে এই আকস্মিক হাতির হানার ঘটনায় গোটা গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

কীভাবে ঘটেছিল এই দুর্ঘটনা?
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ওই কৃষকের নাম সতপাল, যাঁর পিতার নাম ভগবান। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার সময় সৎপাল তাঁর নিজস্ব ক্ষেতে কাজ করছিলেন। ঠিক সেই সময়ই আচমকা জঙ্গল থেকে একটি বিশালকায় বুনো হাতি এসে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে সজোরে আক্রমণ করে। হাতিটির পদাঘাত ও হিংস্র আক্রমণে তিনি গুরুতর জখম হন। আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বন দফতরের পদক্ষেপ ও গ্রামবাসীদের উদ্বেগ:
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নড়েচড়ে বসে বন বিভাগ। দ্রুত বন বিভাগের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি স্থানীয় থানাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। বন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে ওই এলাকায় বন্য হাতির অবাধ বিচরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপরই সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে পার্শ্ববর্তী এলাকায় নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হাতির গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে এবং গ্রামবাসীদের সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে ওই এলাকায় পর্যাপ্ত বনরক্ষীও মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বাহার পিলি গ্রাম ও তার সংলগ্ন গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, ফসলের ক্ষেত এবং সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় বন্য হাতির আনাগোনা বর্তমানে এক নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বা রাতে যাঁরা মাঠে কাজ করতে বাধ্য হন, তাঁদের জীবন প্রতিনিয়ত এক চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বন্য হাতিটি যাতে পুনরায় কোনো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে বড় ধরনের বিপদ ঘটাতে না পারে, তার জন্য কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি, গ্রামবাসীদেরও অযথা একা জঙ্গল বা মাঠে যাওয়া থেকে বিরত থাকার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *