মহালয়ার ভোরে গঙ্গার ঘাটে উপচে পড়বে ভিড়! পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এল বড় নির্দেশিকা

মহালয়ার ভোরে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করতে প্রতি বছরের মতো এবারও গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর উপচে পড়া ভিড় জমার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বিপুল জনস্রোত ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মহালয়ার অনেক আগেই আগাম প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। গঙ্গার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ভোরের অন্ধকার দূর করতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং পুণ্যার্থীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ঘাটের প্রস্তুতির উপর নিখুঁত নজরদারি চালাতে জেলা প্রশাসন ও পুর কর্তৃপক্ষকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঘাট সাফাই ও সৌন্দর্যায়ন:
প্রশাসনের দেওয়া নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, মহালয়ার আগেই গঙ্গার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাট এবং তার সংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ জঞ্জালমুক্ত ও পরিষ্কার করতে হবে। ঘাটের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তা, হাঁটার পথ, সিঁড়ি এবং আশপাশের চত্বর থেকে যাবতীয় আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। কোথাও পলি বা আগাছা জমে থাকলে তা সাফ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে কোনো অসুবিধা না হয়।

পাশাপাশি, ঘাটের সিঁড়ি ও চাতাল ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করার পাশাপাশি কোনো সিঁড়ি, রেলিং বা হাঁটার রাস্তা ভাঙা-চোরা থাকলে তা দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহালয়া এবং আসন্ন দুর্গাপুজোর উৎসবের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে বিশেষ সৌন্দর্যায়নের কাজও সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

ভোরে তর্পণ ও আলোর বিশেষ ব্যবস্থা:
মহালয়ার দিন সূর্যোদয়ের অনেক আগে থেকেই গঙ্গার ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। তাই ঘাট এবং সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কেবল ঘাটেই নয়, নদীর পাড়, ঘাটে যাওয়ার মূল রাস্তা, হাঁটার পথ এবং পার্কিং জোনগুলিতেও পর্যাপ্ত আলোর বন্দোবস্ত রাখতে হবে, যাতে ভোরের অন্ধকারে পুণ্যার্থীদের কোনো বিপাকে পড়তে না হয়।

নাগরিক পরিষেবা ও নিরাপত্তা:
মহালয়ার ভোরে গঙ্গার ঘাটে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য একাধিক নাগরিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারের বন্দোবস্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি, ঘাটের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রেখে নিয়মিত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বর্জ্য পদার্থ জমে না থাকে।

জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত ব্যারিকেড বসানো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সফল করতে পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় পুরসভা, সেচ ও জলপথ দফতর এবং কলকাতা পুরসভার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলাশাসক ও পুর কমিশনারদের বিশেষ দায়িত্ব:
নির্দেশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে, মহালয়ার আগে সমস্ত ঘাটের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করে কোন ঘাটে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোন আধিকারিক তার দায়িত্বে থাকবেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহালয়ার আগে সমস্ত চিহ্নিত ঘাট যাতে পুণ্যার্থীদের বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে, এখন তারই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *