‘বন্দে মাতরম স্লোগানে প্রকম্পিত হবে ক্যাম্পাস!’-রাজ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে বাংলায় কার্যত বন্ধ রয়েছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে উচ্চশিক্ষার অঙ্গনগুলিতে ছাত্র ভোটের দাবিতে সোচ্চার ছিল সমস্ত রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলি। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ফের ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আগামী বছরেই রাজ্যে ছাত্রভোট: বৃহস্পতিবার আরজি কর হাসপাতালে এবিভিপি (ABVP)-র একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী বছরই রাজ্যজুড়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলেই যে ছাত্র ভোট বন্ধ রাখা হয়েছিল, সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে বর্তমান সরকার কথা রাখছে। শুধু তাই নয়, আগামী বছরের এই ছাত্র নির্বাচনে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগানের জোয়ার উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে এসএফআই (SFI), এবিভিপি, ছাত্র পরিষদ ও ডিএসও (DSO)-এর মতো সংগঠনগুলি ছাত্র ভোটের দাবি জানিয়ে আসছিল, যা এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
যাদবপুর ও বাম শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: ছাত্র নির্বাচনের ঘোষণার পাশাপাশি এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। কমিউনিস্ট এবং তথাকথিত ‘মগজধোলাই হওয়া নকশালদের’ কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এরা দেশদ্রোহী। এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়, রাস্তায় নেমে এদের উৎখাত করতে হবে।” ক্যাম্পাসে ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়ার প্রবনতা নিয়েও কড়া ভাষায় তোপ দাগেন তিনি।
পাশাপাশি, প্রবীণ সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ঘিরেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর তিনি এর নেপথ্যে কোনো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই ধরনের মনগড়া অভিযোগ করে গোটা হিন্দু জাতিকে অপমান করা হয়েছে, এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সবমিলিয়ে, ছাত্রভোটের ঘোষণা এবং রাজনৈতিক তরজাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে এখন নতুন উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।