অবশেষে মিলল অ্যাপয়েন্টমেন্ট! রাষ্ট্রপতি ভবনে আজ রাতেই দ্রৌপদী মুর্মুর মুখোমুখি রাহুল-মমতা, তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ

অবশেষে মহামহিম রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেলেন দেশের বিরোধী সাংসদেরা। শুক্রবার রাতেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ প্রায় ৩০০ জন বিরোধী সাংসদ। জানা গিয়েছে, বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে আজ রাত ৮টায় সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাতের পটভূমি ও দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি:
উল্লেখ্য, ‘ভোটচুরি’ বিতর্কে নাম উঠে আসা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানাতেই বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লি গিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্যান্য নেতারা আদৌ রাইসিনা হিলসে প্রবেশাধিকার পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রথমে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল গতকাল বিকেলে জানিয়েছিলেন যে তাঁরা সাক্ষাতের সময় চেয়ে আবেদন পাঠালেও রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে কোনো উত্তর আসেনি। অবশেষে শুক্রবার সেই কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

সাক্ষাতের সময় মিললেও থামছে না আন্দোলন:
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাওয়া সত্ত্বেও নিজেদের আন্দোলন বা বিক্ষোভ থেকে পিছপা হতে রাজি নন বিরোধী সাংসদেরা। গতকালের পর আজও দিল্লিতে নিজেদের প্রতিবাদ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। আজ দুপুর ২টোর পর পুরোনো সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে সমস্ত শরিক দলের মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। সেখান থেকেই বিরোধী সাংসদেরা রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করবেন।

কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী:
অন্যদিকে, শনিবার থেকেই দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিকে কার্যত একটি দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বিক্ষোভকারীদের সামাল দিতে দিল্লির রাজপথে নামছে ৭০ হাজারের বেশি দিল্লি পুলিশ এবং ২৫ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী। যার মধ্যে বাংলা ও ছত্তিশগড় থেকে আসা প্রায় ৭০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে।

পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আজ রাত ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার জন্য ডিএমআরসি (DMRC)-কে অনুরোধ করা হয়েছে। গোটা নিউদিল্লি জুড়েই বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সিজেপি-কে কোনো রকম বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সকাল থেকেই সেন্ট্রাল দিল্লির একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড ও ব্লকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হবে এবং শুধুমাত্র রিং রোডই যাতায়াতের জন্য খোলা রাখা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *