পাইলট ছাড়াই সুইডিশ যুদ্ধবিমান চালিয়ে ইতিহাস গড়লেন থাইল্যান্ডের রানি! রাজপ্রাসাদ ছেড়ে আকাশ দখলে নজিরবিহীন কাণ্ড

রাজা ও সম্রাটদের জাঁকজমক এবং বিলাসবহুল জীবনযাত্রার গল্প তো অনেক শুনেছেন, কিন্তু থাইল্যান্ডের রানি সুথিদা এমন এক অনন্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন যা সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। রানি সুথিদা সম্প্রতি সম্পূর্ণ একা কোনো রকম কো-পাইলটের সাহায্য ছাড়াই একটি সুইডিশ যুদ্ধবিমান, জেএএস ৩৯ সি গ্রিপেন (JAS 39 C Gripen) সফলভাবে উড়িয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। রানির এই অভাবনীয় ও সাহসিকতাপূর্ণ কৃতিত্ব বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাঁর এই অনন্য শৈলী প্রমাণ করে যে তিনি কেবল রাজপ্রাসাদের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, বরং আকাশের নীলিমা এবং রোমাঞ্চের প্রতিও তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে।

নিজে ফ্লাইট প্ল্যান পর্যালোচনা করে যুদ্ধবিমানের ককপিটে রানি:
ব্যাংকক পোস্টের একটি বিশেষ প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডের সুরাত থানি প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে। আকাশে ওড়ার আগে কোনো সাধারণ পাইলটের মতো রানি নিজেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো ফ্লাইট প্ল্যান পর্যালোচনা করেন এবং যুদ্ধবিমানটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিজে পরিদর্শন করে নেন।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে স্বয়ং থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত ছিলেন। রানি সুথিদা সফলভাবে যুদ্ধবিমানটি অবতরণ করার পর রাজা স্বয়ং এগিয়ে এসে তাঁকে এক তোড়া ফুল দিয়ে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং রাজকীয় সম্মান হিসেবে বিশেষ ‘গ্রিপেন অর্ডার গোল্ডেন প্যাচ’ প্রদান করেন।

শখ নয়, বরং পেশাদার পাইলটের অভিজ্ঞতা:
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে রানি হঠাৎ কীভাবে যুদ্ধবিমান ওড়ালেন? তবে জেনে রাখা ভালো, রানি সুথিদা কোনো নতুন বা কাঁচা পাইলট নন। এর আগে ছোট বিমান চালনা থেকে শুরু করে সুপরিসর বাণিজ্যিক বোয়িং ৭৩৭ বিমান পর্যন্ত পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এমনকি ১,১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আকাশপথে বিমান চালানোর সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

গত বছর এই রাজ দম্পতি যখন ভুটান সফরে গিয়েছিলেন, তখন বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত পারো বিমানবন্দরে তাঁরা নিজেরাই বিমানটির নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। রাজপ্রাসাদের জাঁকজমক ছেড়ে রানির এমন অদম্য সাহস ও আকাশ জয়ের এই বীরগাথা এখন বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *