“নিজেই নিজের চিয়ারলিডার হতে হবে!” বডি শেমিংয়ের মুখে পড়ে অবশেষে মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

মাতৃত্ব যে কোনো নারীর জীবনেই এক সুন্দর ও পরিবর্তনশীল অধ্যায়। তবে সেই নারী যদি রূপোলি পর্দার জনপ্রিয় তারকা হন, তবে তাঁর শারীরিক রূপান্তর বা ওজন বৃদ্ধি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় অন্তহীন কাটাছেঁড়া। সম্প্রতি আম্বানি পরিবারের গণেশ পুজোয় ক্যাটরিনা কাইফকে (Katrina Kaif) দেখার পর ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। নেটিজেনদের একাংশ অভিনেত্রীকে নিয়ে লাগাতার বডি শেমিং করতে শুরু করেন। এতদিন এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও, এবার লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে পরোক্ষভাবে ট্রোলটারদের মোক্ষম জবাব দিলেন বলিউড ডিভা।
লন্ডনের ইভেন্টে কী বললেন ক্যাটরিনা?
গত ৮ অক্টোবর লন্ডনে নিজের বিউটি ব্র্যান্ডের প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যাটরিনা। সেখানে উপস্থিত বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি বর্তমান সমাজের বিউটি স্ট্যান্ডার্ড এবং নিজের মানসিক ও শারীরিক যত্ন নেওয়ার নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। অভিনেত্রী স্পষ্টতই বুঝিয়ে দেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কুৎসিত সমালোচনা বা ট্রোলিংয়ে কান দিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস নড়ে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়। অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে নিজের মূল্য নির্ধারণ করার ভুল যেন কেউ না করেন, সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্যাটরিনা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বেশি নেতিবাচক মতামত ঘুরে বেড়ায় যে, সমস্ত কথায় কান দিলে নিজের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিটি সমালোচনার জবাব দিতে গেলে জীবন এগোয় না। ক্যাটরিনার কথায়, “এমন অনেক সময় আসবে যখন গোটা দুনিয়া আপনার প্রশংসা করবে। আবার কখনও কখনও এমন সময়ও আসবে, যখন নিজেকেই নিজের সবচেয়ে বড় চিয়ারলিডার হতে হবে।” অর্থাৎ, বাইরের প্রশংসার ওপর নির্ভর না করে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটাই আসল চাবিকাঠি।
জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেকে ভালোবেসে মেনে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন এই তারকা। তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের আত্মবিশ্বাস সব সময় এক স্তরে থাকে না। এমন দিনও আসে যখন নিজেকে সেরা মনে হয়, আবার কখনও নিজের যোগ্যতা নিয়ে মনে সন্দেহ তৈরি হয়। এই উত্থান-পতনের মাঝেও জীবনের বর্তমান মুহূর্তকে গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাটরিনার এই পরিপক্ব ও আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তা লুফে নিয়েছেন অনুরাগীরা। বডি শেমিংয়ের মতো নেতিবাচক বিষয়কে যেভাবে তিনি নিজের মানসিক শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করেছেন, তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটপাড়া।