নিজের বুথেই পেলেন শূন্য ভোট! মমতার দীর্ঘদিনের হেভিওয়েট প্রার্থীর এই হাল কেন হলো?

রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে। রাজ্যের শাসক শিবিরের দীর্ঘদিনের দাপুটে বিধায়ক তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী একটি নির্দিষ্ট পোলিং স্টেশনে একটিও ভোট পাননি—অর্থাৎ তাঁর ঝুলিতে এসেছে ‘শূন্য’ (0) ভোট। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ৩ রাউন্ডের ভোটের পরিসংখ্যান সামনে আসতেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওই বুথে (২০ নম্বর পোলিং স্টেশন) মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী একটি ভোটও পাননি। ৩ রাউন্ড শেষে সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রবিউল আলম চৌধুরী পেয়েছেন ৫৩৩টি ভোট। অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার পেয়েছেন ৭,৯৫১টি ভোট এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ পেয়েছেন ৪,২৪৪টি ভোট। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরাও কিছু ভোট পেলেও প্রাক্তন বিধায়কের এমন ভরাডুবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, রবিউল আলম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। ছাব্বিশের এই উপনির্বাচনেও দল তাঁর ওপরই ভরসা রেখেছিল। তবে নির্বাচনের আগে নানা নাটকীয় মোড় দেখা গিয়েছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ ও নতুন প্রতীক সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলে তিনি নিজেই প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সিদ্ধান্ত বদল করে লড়াইয়ে থাকার কথা জানান।

ভোটের দিন সকালে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও সারাদিন তাঁকে প্রচারে বা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এরপর ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি দিয়ে রেজিনগর কেন্দ্রে ব্যাপক ভোটলুঠ ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন তিনি। সমস্ত বুথের ভোট বাতিল করে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানান এই বর্ষীয়ান নেতা। কিন্তু ভোটগণনা শুরু হতেই এমন ফল সামনে আসায় রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্যতম বড় ধাক্কার মুখে পড়তে হলো রবিউল আলম চৌধুরীকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *