পুজোয় বাজিমাত করলেই মিলবে ১ লক্ষ টাকা! পরিবেশবান্ধব পুজোর জন্য বিরাট ঘোষণা রাজ্য সরকারের

দুর্গাপুজোকে (Durga Puja 2026) আরও পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে পুজো কমিটিগুলির জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে ‘গ্রিন দুর্গাপুজো এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ বা ‘সবুজ দুর্গাপুজো উৎকর্ষ সম্মান’। পরিবেশ রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা নেওয়া পুজো কমিটিগুলিকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
কোন কোন বিভাগে মিলবে পুরস্কার?
পরিবেশবান্ধব উৎসবের ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে মূলত চারটি বিভাগে পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করা হবে:
শ্রেষ্ঠ গ্রিন দুর্গাপুজো: পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর ব্যবহার ও প্রকৃতি রক্ষায় অনন্য উদোগের জন্য।
শ্রেষ্ঠ পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্য স্মার্ট পুজো: মণ্ডপ ও সংলগ্ন চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য।
শ্রেষ্ঠ সচেতনতা উদ্যোগ: পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচির জন্য।
কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ড: এলাকার বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রশংসনীয় সামাজিক কাজের জন্য।
পুরস্কারের অর্থমূল্য কত?
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যস্তরে সেরার সেরা পুজো কমিটিকে দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দল পাবে ৮০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থানাধিকারী পাবেন ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি, শুধুমাত্র রাজ্যস্তর নয়, জেলাভিত্তিক সেরা পুজো কমিটিগুলিকেও উৎসাহ দিতে প্রতিটি জেলা থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কমিটিকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পুজো কমিটিগুলির জন্য একটি বিশেষ ‘গ্রিন দুর্গাপুজো ইভ্যালুয়েশন অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর মাধ্যমেও আবেদন করার সুবিধা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় দু’হাজার পুজো কমিটি এই সম্মানের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি সমস্ত আবেদন যাচাই করে সেরা পুজোতালিকি চূড়ান্ত করবে।
মণ্ডপ থেকে মিলবে চারাগাছও
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এক অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে বিশেষ স্টল তৈরি করা হবে, যেখান থেকে দর্শনার্থীদের হাতে চারাগাছ তুলে দিতে পুজো কমিটিগুলিকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ রাজ্যের পরিবেশপ্রেমী মানুষ ও পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।