১৪০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস আর পুণ্য দর্শনে জমজমাট! মায়াপুরের কাছেই লুকিয়ে থাকা এই অলৌকিক ধাম

ছুটির দিন মানেই ভ্রমণপিপাসু বাঙালির মনে ভিড় করে নতুন জায়গা আবিষ্কারের রোমাঞ্চ। নদীয়া জেলার মায়াপুর মানেই হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড়, ইস্কন মন্দির আর গঙ্গার শান্ত আবহাওয়া। কিন্তু মায়াপুরের ঠিক পাশেই এমন একটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থান লুকিয়ে রয়েছে, যেখানে পৌঁছলে মন জুড়িয়ে যায়। সেটি হলো শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মামাবাড়ি ও শচীমাতার জন্মস্থান—বেলপুকুর বা বিল্বপুষ্করিণী।

১৪০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাসের ছোঁয়া

মায়াপুর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রাচীন ধামে গেলে গ্রাস করবে ইতিহাসের আবহ। এখানকার মন্দিরের সেবায়েত ও স্থানীয়দের মতে, এই অঞ্চলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাপ্রভুর পরম পবিত্র স্মৃতি। মন্দিরে পূজিত কাঠের মূল বিগ্রহটি প্রায় চৌদ্দশো বছরের প্রাচীন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর দাদামশাই নীলাম্বর চক্রবর্তী ঠাকুর একসময় বাংলাদেশ থেকে এই পারিবারিক বিগ্রহটি নবদ্বীপ ধামে নিয়ে আসেন।

‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থেও এই বিশেষ স্থান ও নীলাম্বর চক্রবর্তীর উল্লেখ পাওয়া যায়। মূল গর্ভগৃহে সেই প্রাচীন দারুময় বিগ্রহের পাশাপাশি পরম শ্রদ্ধায় পূজিত হন শচীমাতা এবং নীলাম্বর চক্রবর্তীর মূর্তি। ভক্তদের বিশ্বাস, স্বয়ং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর মা ও দাদুর সেবিত এই বিগ্রহের সেবা করেছেন, যা দর্শন করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার।

কীভাবে যাবেন এবং কখন খোলা থাকে?

প্রতিদিনই এখানে নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে ভোগ নিবেদন, শৃঙ্গার ও সন্ধ্যারতি সম্পন্ন হয়। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা এবং দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত মন্দির ভক্তদের জন্য খোলা থাকে। এরপর বিকেল ৪টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আবার মন্দিরের দরজা উন্মুক্ত থাকে। আপনি যদি ছুটির দিনে একটু শান্তি, ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিকতার খোঁজে থাকতে চান, তবে মায়াপুর ভ্রমণের সময়ে অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন এই পবিত্র বেলপুকুর থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *