অভিনয়ের ভেতরে এমন কী ছিল যা কেড়ে নিত প্রাণ? নানা পাটেকরের জীবনের সবচেয়ে বড় ভয়ের নেপথ্য রহস্য ফাঁস!

নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনে ‘নটসম্রাট’ ছবি ও গণপতরাও বেলভালকর চরিত্রটি এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই চরিত্রটিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও সিনেপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে রয়েছে। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, মহেশ মাঞ্জরেকরের এই কালজয়ী চরিত্রে মঞ্চে অভিনয় করার প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেতা। আর তার নেপথ্যে ছিল এক অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর আতঙ্ক!
কেন মঞ্চে ‘নটসম্রাট’ করতে অস্বীকার করেছিলেন নানা?
মারাঠি থিয়েটারের সর্বকালের অন্যতম সেরা নাটক ‘নটসম্রাট’-এর মূল চরিত্রে এর আগে বহু প্রবীণ ও কিংবদন্তি অভিনেতা অভিনয় করেছেন। তবে নানা পাটেকরের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে গেলে শিল্পীকে নিজের সত্তা পুরোপুরি সেই চরিত্রের মধ্যে ডুবিয়ে দিতে হয়। মঞ্চে বারবার একই চরিত্রে এতটা মানসিক ও শারীরিক চাপ নিয়ে অভিনয় করা অত্যন্ত কঠিন।
অভিনেতা জীবদ্দশায় এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অতীতে যারা মঞ্চে ‘নটসম্রাট’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল, তিনি যদি মঞ্চে এই চরিত্রের গভীরে গিয়ে একটানা ২৫টি শো-ও করতেন, তবে তাঁকেও হয়তো হার্ট অ্যাটাকের শিকার হতে হতো! মঞ্চের এই চরম ঝুঁকি এবং প্রাণঘাতী আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই তিনি নাটকটি মঞ্চে করার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং পরবর্তীতে রূপোলি পর্দাকে বেছে নেন। নাটকের মঞ্চ ছেড়ে সিনেমার পর্দায় গণপতরাওয়ের সেই যন্ত্রণা ও ট্র্যাজেডিকে নানা যেভাবে অমর করে গেছেন, তা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য ইতিহাস হয়ে রয়েছে।