সময়সীমা শেষ আজই! লোকসভার স্পিকারের কাছে চরম বিপাকে পড়া বিদ্রোহী সাংসদদের বড় আর্জি

লোকসভায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া ঝুলছে মাথার ওপর। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের অযোগ্যতা সংক্রান্ত মামলার নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা আজ, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। তবে নির্ধারিত দিনেও চূড়ান্ত আইনি জবাব প্রস্তুত করে উঠতে না পারায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেছেন বিদ্রোহী সাংসদরা।
এই সময় বাড়ানোর আর্জির ফলে সংসদে তাঁদের সদস্যপদ এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা টানাপোড়েন আরও দীর্ঘায়িত হলো।
কী বলছেন বিদ্রোহী সাংসদরা?
বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ তথা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, দলবদলের জেরে তাঁদের সংসদীয় পদ বাতিল হবে না—এই দাবিতে তাঁরা অনড় রয়েছেন। তবে তাঁদের আইনি আইনজীবীরা এখনও সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও কাগজপত্র সংগ্রহ করার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “আজ জবাব জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তাই আমরা লোকসভার স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি লিখে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছি।” নোটিশ এবং পরবর্তী আইনি কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কলকাতায় একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ।
তীব্র ক্ষোভ ও তোপ দাগল মমতা শিবির
তৃণমূলের ২৭ জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ২০ জনের দলত্যাগ এবং পরবর্তীতে এনডিএ (NDA)-পন্থী এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার ঘটনাকে শুরু থেকেই তীব্র আক্রমণ করে এসেছে রাজ্য নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে স্পিকারের কাছে সময় চাওয়ার ঘটনাকে ‘সুযোগসন্ধানী রাজনীতি’ বলে দেগে দিয়েছে শাসকদল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “ওঁরা এখন কোন দলে আছেন বা কার নির্দেশে চলছেন, সেটাই নিজেরা জানেন না। নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে এখন কেবল সময় নষ্ট করছেন। এর জন্য তো সময় লাগবেই!”
লোকসভার স্পিকার এই অতিরিক্ত সময়সীমার আবেদন মঞ্জুর করেন নাকি কঠোর পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।