“তোমরা গঙ্গাকে শেষ করে দিয়েছ!” সুপ্রিম কোর্টের চরম ধমকে কাঁপছে ইউপি-বিহার সহ একাধিক রাজ্য

মা গঙ্গার দূষণ ও নদীর পাড়ে বেহাল দশা নিয়ে এবার রাজ্যগুলোর ওপর চরম ক্ষোভ উগড়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইচ্ছেমতো নদীকে ব্যবহার করে তার অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার সহ দেশের ১১টি রাজ্যকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি দ্রুত নদী তীরবর্তী সমস্ত অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

“অনেক হয়েছে, এবার নদীকে ছাড়ুন”

নদীর বাস্তুতন্ত্র এবং সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো ইতিমধ্যেই গঙ্গাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। আগের নির্দেশিকাগুলো বারবার দেওয়ার পরেও রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের কার্যনির্বাহী স্তরে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই চরম উদাসীনতার কারণেই আদালত এবার সরাসরি কড়া পদক্ষেপের পথ বেছে নিয়েছে।

আদালতের এই ক্ষোভের মুখে পড়ে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনগুলো। বিশেষ করে বিহারে অতিরিক্ত জলপ্রবাহ ও বন্যার পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবৈধ দখল সরাতে ১২ সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

১১টি রাজ্যকে নোটিশ ও তলব

এর আগে এই একই বিষয়ে শুনানি চলাকালীন উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ এবং দিল্লি—এই মোট ১১টি রাজ্যকে নোটিশ জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। নদী অববাহিকার বর্তমান অবস্থা, নদীর দুই পাড়ে চলা অবৈধ জবরদখল এবং ফ্লাড প্লেইন বা প্লাবনভূমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সমস্ত রাজ্যগুলির কাছে বিশদ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

পাশাপাশি, কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকেও সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ হলফনামা পেশ করা হয়েছে। জলশক্তি, পরিবেশ এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, উত্তরাখণ্ডের অলকানন্দা এবং ভাগীরথী নদী উপত্যকায় ইতিমধ্যেই অনুমোদিত সাতটি প্রকল্প ছাড়া নতুন কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আর কোনো সমর্থন করবে না কেন্দ্র। সবমিলিয়ে, দেশের প্রধান নদীগুলির সুরক্ষায় আদালতের এই কঠোর নজরদারি আগামী দিনে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল আনতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *