উদ্বোধনের মাত্র ১১ দিনেই চরম বিপর্যয়! দিল্লির নবনির্মিত মেগা ফ্লাইওভারে হাজার হাজার গাড়ির দীর্ঘ লাইন, কিন্তু কেন?

যানজটের নরকযন্ত্রণা থেকে দিল্লি, নয়ডা এবং গাজিয়াবাদবাসীকে মুক্তি দিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বারাপুলা এলিভেটেড করিডোরের তৃতীয় পর্যায় (Barapulla Elevated Corridor Phase 3)। উদ্দেশ্য ছিল খুব স্পষ্ট—পূর্ব দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের দিক থেকে আসা যাত্রীদের দেড় ঘণ্টার কঠিন যাত্রা মাত্র ২০ মিনিটে নামিয়ে আনা। কিন্তু বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ উল্টো! উদ্বোধনের মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই এই মেগা ফ্লাইওভারটি এখন তীব্র যানজটের এক স্থায়ী ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্বপ্নের প্রজেক্টে নকশার বড় গোলমাল!
সরাই কালে খাঁ থেকে ময়ূর বিহার ফেজ-ওয়ান সংযোগকারী প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফ্লাইওভারটিতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যাম লেগে থাকছে। গ্রাউন্ড রিপোর্টে উঠে এসেছে এর আসল কারণ—ফ্লাইওভারটির নকশা বা ডিজাইনে মারাত্মক ত্রুটি!
-
বটলনেকের মারাত্মক ফাঁদ: ৩টি ভিন্ন ভিন্ন ব্যস্ততম সড়কের ট্রাফিক এসে এই নতুন উড়ালপুল থেকে নেমে সরাসরি পুরানো বারাপুলা করিডোরের ওপর একসঙ্গে মিশছে।
-
পর্যাপ্ত চওড়া রাস্তা বা উপযুক্ত মার্জিং লেন না থাকায় তৈরি হচ্ছে তীব্র ‘বটলনেক’ (Bottleneck)। ফলে নিমেষের মধ্যে গাড়ির গতি থমকে গিয়ে তৈরি হচ্ছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার যানজট।
দুর্ভোগে হাজার হাজার নিত্যযাত্রী
যে এলিভেটেড রোড সাধারণ মানুষের সময় ও জ্বালানি বাঁচানোর কথা ছিল, এখন সেটাই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা—সব গাড়িই এই ফ্লাইওভারে উঠে আটকে পড়ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
উদ্বোধনের দিন কয়েকের মধ্যেই প্রজেক্টের এমন বেহাল দশা সামনে আসায় দিল্লির পূর্ত বিভাগ (PWD) এবং এর নকশাকারী ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তড়িঘড়ি কোনো ভুল শুধরানোর পদক্ষেপ না নিলে রাজধানী ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) অঞ্চলের যাত্রীদের এই দুর্ভোগ যে আরও দীর্ঘায়িত হবে, তা বলাই বাহুল্য।