হরিমোহন ঘোষ কলেজ কাণ্ডে তীব্র অস্বস্তিতে স্পিকার! জমি জালিয়াতির নতুন মোডাস অপারেন্টির বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে

কলকাতার গার্ডেনরিচের ঐতিহ্যবাহী হরিমোহন ঘোষ কলেজের জমি এবং অডিটোরিয়াম হস্তান্তরের আর্থিক দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের গতি বাড়তেই এবার সরাসরি রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, একটি নিখুঁত ছক কষে কলেজের মূল্যবান সম্পদ বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার ও হাতবদল করা হয়েছিল।
মোডাস অপারেন্টি: দুর্নীতি কীভাবে ঘটেছিল?
তদন্তকারী দল সূত্রে খবর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে কলেজের অডিটোরিয়াম ও সংলগ্ন জমি হস্তান্তরের চুক্তি সম্পন্ন হয়। একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দিতে সাধারণ নিয়মনীতি তোয়াক্কা করা হয়নি। অডিটোরিয়ামটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারে কার সম্মতি ছিল এবং বিশাল অঙ্কের লেনদেনের চূড়ান্ত অনুমোদন কে দিয়েছিল—সেই সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে গিয়েই তৎকালীন গর্ভনিং বডির প্রভাবশালী কর্তাদের দিকে আঙুল উঠছে। তৎকালীন সময়ে স্পিকারের ভূমিকা ও তাঁর সম্মতি কতখানি ছিল, তা এখন কেন্দ্রীয় জিজ্ঞাসার বিষয়।
কমিশনের কড়া অবস্থান ও অস্বস্তিতে স্পিকার
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, জমি ও পরিকাঠামো ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার আইনি এখতিয়ার এবং আর্থিক লেনদেনের আসল মাস্টারমাইন্ডদের সন্ধান প্রায় শেষ পর্বে। নথিপত্রে থাকা বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক সই ও অনুমোদনের চিঠি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। পুরো ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও, রাজ্য রাজনীতির শীর্ষে থাকা এই বর্ষীয়ান নেতার দিকে আঙুল ওঠায় অস্বস্তি বেড়েছে শাসক শিবিরে। কমিশনের এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।