পুজো ফ্যাশনে সোনা-রুপো ফেল! মাত্র ২৫ টাকায় মিলছে সুপারহিট হ্যান্ডমেড গয়না, কেনার ধূম চারদিকে

বাতাসে শিউলির গন্ধ আর কাশের দোলা জানান দিচ্ছে পুজো এসে গেছে। আর পুজো মানেই বাঙালির নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরে প্যান্ডেল হপিং। তবে এ বছর পুজোর ফ্যাশন ট্রেন্ডে এসেছে এক বিরাট চমক। সোনা-রুপো বা ভারী মেটালের চেনা আভিজাত্যকে পেছনে ফেলে তরুণ প্রজন্মের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে রঙিন সুতোয় বোনা হ্যান্ডমেড এমব্রয়ডারি জুয়েলারি।
দাঁতনের গৃহবধূর হাতের জাদুতে বাজিমাত
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ ব্লকের গৃহবধূ মৌমিতা জানা নিজের হাতে তৈরি করছেন এই অপূর্ব সুতোর গয়না। সাধারণ গৃহবধূ হিসেবে ঘরকন্নার পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন এই উদ্যোগ। সুচ আর রঙিন সুতোর ফোঁড়ে কাপড়ের ক্যানভাসে তিনি ফুটিয়ে তোলেন দারুণ সব নকশা। তার সাথে মুক্তো, পুঁতি ও বিভিন্ন অলঙ্কার জুড়ে তৈরি হচ্ছে একদম অনন্য ডিজাইনের কানের দুল, হারের সেট, রিং এবং বালা।
মাত্র ২৫ টাকা থেকে শুরু দাম
এমব্রয়ডারি জুয়েলারির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর পকেটবান্ধব দাম এবং যেকোনো পোশাকের সাথে অনায়াসে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। ঐতিহ্যবাহী শাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক ওয়েস্টার্ন—সব সাজের সাথেই এটি সমান জমকালো।
-
ছোট কানের দুল: মাত্র ২৫ টাকা থেকে শুরু।
-
ভারী ডিজাইনার কানের দুল: ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা।
-
পুরো জুয়েলারি সেট (হার ও কানের দুল): ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
বাংলা পেরিয়ে দিল্লি-কাশ্মীরেও চাহিদা
মৌমিতা জানার তৈরি এই এক্সক্লুসিভ কালেকশন এখন কেবল দাঁতন বা মেদিনীপুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে তাঁর এই হস্তশিল্প এখন কলকাতা তো বটেই, দিল্লি ও কাশ্মীরের মতো সুদূর রাজ্যেও পাড়ি দিচ্ছে। পুজোর মুখে অর্ডারের সামাল দিতে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়।
কম খরচে স্টাইলিশ ও ইউনিক লুক পেতে এই পুজোয় এমব্রয়ডারি জুয়েলারিই হয়ে উঠেছে নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। নিজের উদ্ভাবনী শক্তির জোরে মৌমিতা যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন, তেমনই ফ্যাশনপ্রেমীদের পুজো সাজেও এনে দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা।