পুণে থেকে পাটনা বিমান ভাড়া ৫৫ হাজার! উৎসবের মরশুমে বিমানসংস্থার এ কেমন পকেটমারি?

আলোকের উৎসব দেওয়ালি এবং বিহারের সবচেয়ে বড় পার্বণ ‘ছট পূজা’র আগে দূর-দূরান্তে কর্মরত মানুষ যখন বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া তাঁদের চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক সহ দক্ষিণ বা পশ্চিম ভারতের নানা রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী চাকুরিজীবী ও শ্রমিকদের জন্য এবার ঘরে ফেরা কার্যত সাধ্যের অতীত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উৎসবের ঠিক মুখটিতে যাত্রীদের এই নিরুপায় অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিমানসংস্থাগুলোর চরম পকেটমারি ও অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ফ্ল্যাট বুকিং পোর্টালগুলোতে।

উৎসবের মুখে পুণে-পাটনা রুট যেন ‘সোনার হরিণ’

ভ্রমণ সংক্রান্ত জনপ্রিয় ওয়েবসাইট cheapflights.com-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ থেকে ৭ই নভেম্বরের মধ্যে পুণের লোহেগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিহারের পাটনাগামী ফ্লাইটের টিকিটের দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছেছে। যেখানে সাধারণ দিনে এই রুটে ভাড়া থাকে কয়েক হাজার টাকা, সেখানে উৎসবের এই দিনগুলোতে টিকিট পিছু সর্বোচ্চ দর ছুঁয়েছে প্রায় ৫৫,০০০ টাকা! এমনকি এই সময়ে এই রুটের সর্বনিম্ন ভাড়াও দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫,০০০ টাকা।

দেশের মধ্যে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার এই অস্বাভাবিক খরচ দেখে চোখ কপালে উঠছে মধ্যবিত্ত যাত্রীদের।

যে খরচে বিমানে বিহার, সেই খরচে থাইল্যান্ড ভ্রমণ!

সবচেয়ে তাজ্জব বানিয়ে দেওয়ার মতো বিষয় হলো, দেওয়ালি ও ছটের সময়ে পুণে থেকে বিহারের বিমান ভাড়া এতটাই চড়েছে যে, সমপরিমাণ বা তার চেয়েও কম খরচে অনায়াসে ঘুরে আসা যায় আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র থাইল্যান্ডে।

পোর্টালটির তথ্য অনুযায়ী, ওই একই সময়ে (৫-৭ই নভেম্বর) পুণে থেকে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ফুকেট শহরের ফ্লাইটের সর্বোচ্চ ভাড়া প্রায় ৪৯,০০০ টাকা—যা পুণে-পাটনা রুটের সর্বোচ্চ ভাড়ার (৫৫,০০০ টাকা) চেয়েও বেশ খানিকটা কম!

উৎসবের দিনে পরিযায়ী মানুষদের বাড়ি ফেরার এই চরম তাগিদ ও নিরুপায় অবস্থাকে হাতিয়ার করে বিমান সংস্থাগুলির এই অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকানোয় ক্ষোভ জমা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ট্রেনের টিকিট মেলেনি, আর বিমানের এমন চড়া দামের কারণে পরিবারের সঙ্গে দেওয়ালি বা ছট পূজা উদযাপন করা নিয়ে এখন বড়সড় অনিশ্চয়তায় হাজার হাজার প্রবাসী পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *