দিল্লির রাজপথে হুলুস্থুল! কমলা বাসে চড়ে হঠাৎ কোথায় রওনা দিলেন রাহুল-প্রিয়ঙ্কারা? তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি!

রাজধানীর উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ার মাঝেই এবার এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল দিল্লি। কোনো দামি ভিআইপি কনভয় নয়, হঠাৎ একটি কমলা রঙের সাধারণ বাসে চেপে একসাথে বেরিয়ে পড়লেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরাসহ বিরোধী জোটের তাবড় শীর্ষ নেতারা। কনট প্লেসে জরুরি বৈঠকের পর সরাসরি রাজঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় সেই ‘অরেঞ্জ বাস’। মহাত্মা গান্ধীর স্মারকের সামনে পৌঁছেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনশন ও অবস্থান সত্যাগ্রহে বসে পড়েন তারা।
রাজঘাটে সত্যাগ্রহ শুরু করার আগেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে সুর চড়িয়ে জানান, এই লড়াই সাধারণ কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের যেন ‘বোধোদয়’ হয়, সেই প্রার্থনাই করছেন তারা। যাতে শাসকদল বুঝতে পারে যে তাদের নীতি ও কাজকর্ম দেশের স্বার্থের বিরোধী।
কেন উত্তপ্ত রাজধানী? কী নিয়ে এত ক্ষোভ?
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, ক্রমাগত বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। রাহুল গান্ধী গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন, নির্বাচন কমিশন ভবন ও যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানানোর পথ আটকানোর জন্য প্রায় ৩০০ বিরোধী সাংসদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এমনকি একাধিক জনপ্রতিনিধিকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ ও অপমান করা হয়েছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।
পরিস্থিতি এতটাই স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে যে, নির্বাচন কমিশন ভবন চত্বরে বিপুল সংখ্যক র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) ও দাঙ্গা দমনের সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন করে পুরো এলাকাকে রীতিমতো দুর্গ বানিয়ে ফেলেছে প্রশাসন।
দেশের ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতির উদ্বেগ ও রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদের আগুন
দিল্লির এই তুলকালাম পরিস্থিতিতে ঘি ঢেলেছে দেশের ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতির এক যৌথ বিবৃতি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এভাবে গণতন্ত্রের স্তম্ভ দুর্বল হলে দেশের সার্বিক অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
অন্য দিকে, আন্দোলনের এই আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশেও। দিল্লির ঘটনার প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে লখনউয়ের রাজপথে নামে প্রদেশ কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। হজরৎগঞ্জের জিপিও-র দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ মিছিল আটকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ও প্রিজন ভ্যানে চেপে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অজয়কুমার লাল্লু সহ একাধিক শীর্ষনেতাকে আটক ও গ্রেফতার করে পুলিশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কমলা বাসে চড়ে রাজঘাটে পৌঁছানো এবং বাপুজির স্মারকে বসে সত্যাগ্রহ শুরু করার কৌশল মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের আন্দোলনকে আরও ধারালো ও সংহত রূপ দিল।