রাজনীতিতে মেগা ধামাকা! ঋতব্রতর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করেও কেন মমতাকে ‘একমাত্র নেত্রী’ বললেন রথীন?

রাজ্য রাজনীতিতে নিত্যনতুন সমীকরণ ও দলবদলের জল্পনার মাঝে আবার শিরোনামে উত্তর ২৪ পরগনার প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। সম্প্রতি আইএনটিটিইউসি (INTTUC) রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ও দলীয় কর্মসূচি ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করেছিল। তবে সমস্ত জল্পনা ও জল্পনাকারীদের মুখে ছাই দিয়ে রথীন ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— তাঁর দলীয় আনুগত্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর প্রথম ও শেষ নেত্রী।
সম্প্রতি শ্রম ও শ্রমিক সংগঠন কেন্দ্রিক এক অনুষ্ঠানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে একই মঞ্চ শেয়ার করতে দেখা গিয়েছিল রথীন ঘোষকে। এর পরেই রাজনৈতিক অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে কোনো বড় রদবদল ঘটতে চলেছে?
“মমতাই একমাত্র নেত্রী” — জল্পনায় জল রথীনের
সংবাদমাধ্যমের সামনে এই জল্পনা নিয়ে মুখ খোলেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। দলের অভ্যন্তরে কোনো আলাদা গোষ্ঠী বা শিবিরের অস্তিত্বের কথা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন:
“আমাদের দলে কোনো আলাদা ক্যাম্প বা গোষ্ঠী নেই। দল একটাই এবং সেই দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের দলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি, তাই তাঁর ডাকা কর্মসূচিতে বা যৌথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াটা দলের সাংগঠনিক কাজেরই অঙ্গ।”
তিনি আরও যোগ করেন, তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ এবং নীতিই শেষ কথা। এর বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যার স্থান নেই।
সাংগঠনিক বার্তা ও বিরোধীদের তোপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে একাধিক পুরসভা ও পঞ্চায়েত উপনির্বাচন এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দলের ভেতরের যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বার্তা এড়াতে চেয়েছেন রথীন ঘোষ। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনকে একসূত্রে বেঁধে রাখতেই প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের এই যৌথ উপস্থিতি।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। তবে বিরোধী আক্রমণের জবাবে শাসক শিবিরের স্পষ্ট বার্তা, তৃণমূল কংগ্রেস শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি দল, যেখানে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।