ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার নগদ ৫০ লক্ষ টাকা! মুঙ্গেরের দুর্নীতিগ্রস্ত ইঞ্জিনিয়ারের ডানায় হাত দিল ইওইউ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে এবার বিহারের মুঙ্গের জেলার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নারদ কুমার দাসের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালাল অর্থনৈতিক অপরাধ ইউনিট বা ইওইউ (EOU)। বৃহস্পতিবার সকালে একযোগে মুজাফফরপুর, ভাগলপুর, মুঙ্গের এবং পাটনা— এই চার জেলার মোট পাঁচটি আলাদা ঠিকানায় ঝটিকা তল্লাশি শুরু করে ইওইউ-এর বিশেষ দল। এর মধ্যেই মুজাফফরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ইওইউ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী নারদ কুমার দাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের জোরালো প্রমাণ মিলেছে। তাঁর মোট জ্ঞাত বৈধ আয়ের উৎসের তুলনায় প্রায় ৮৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ২০০ টাকা অতিরিক্ত সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, যা তাঁর মোট আয়ের তুলনায় প্রায় ৬৪.৯৩ শতাংশ বেশি। এই ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ইওইউ-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাব একটি মামলা (নম্বর ২৮/২৬) রুজু করা হয়।
ভোরে পাঁচ ঠিকানায় একযোগে হানা:
পাটনার বিশেষ ভিজিল্যান্স আদালত থেকে সুনির্দিষ্ট তল্লাশি পরোয়ানা পাওয়ার পরই এই মেগা অভিযান চালানো হয়। ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিকদের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ দলগুলি মুজাফফরপুর, ভাগলপুর, মুঙ্গের এবং পাটনার বিভিন্ন ঠিকানায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। এর মধ্যে মুজাফফরপুরের কাজিমুহাম্মদপুর থানা এলাকার নতুন টোলার ‘রাধিকা অ্যাপার্টমেন্ট’-এর ২এফ নম্বর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় নগদ ৫০ লক্ষ টাকা।
সকালে আচমকা এই ইওইউ দল হানা দেওয়ায় ফ্ল্যাট ও সংশ্লিষ্ট অ্যাপার্টমেন্ট চত্বরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। উৎসুক প্রতিবেশীরাও এই আকস্মিক তল্লাশি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু করেন। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের আলমারি খুলে সম্পত্তির দলিল, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি, বহুমূল্য গয়না এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অর্থনৈতিক অপরাধ ইউনিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সমস্ত জায়গার তল্লাশি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া মোট নগদ টাকা, সম্পত্তি এবং অন্যান্য সামগ্রীর একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ্যে আনা হবে।