সিয়াচেনের ঠান্ডায় যিনি দেশ পাহারা দেন, ছু্টিতে বাড়ি ফিরতেই তাঁর নাক কেটে নিল বখাটেরা! গ্রেটার নয়ডায় সেনার ওপর চরম বর্বরতা

সীমান্তে যিনি দেশের সুরক্ষায় হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় দিনরাত পাহারা দেন, ছুটির দিনে নিজের ভিটেমাটিতে ফিরে তাঁকে শিকার হতে হলো চরম অমানবিক হিংসার। উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডার জেওয়ার (Jewar) এলাকা থেকে সামনে এল মানবতা ও আইনশৃঙ্খলার মুখে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দেওয়া চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সামান্য একটি বাইক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বচসা থেকে তিন যুবক নৃশংসতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে এক ভারতীয় সেনা জওয়ানের ওপর চালাল পৈশাচিক হামলা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল জওয়ানের নাকের অংশ, আর হাতুড়ির ঘায়ে থেঁতলে দেওয়া হলো তাঁর পা। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই জওয়ান।
আহত ওই সৈনিকের নাম রকি তালান। তিনি উত্তর প্রদেশের আলিগড় জেলার বুধাকা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রকি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৫ম জাট ব্যাটালিয়নের কর্মরত এবং বর্তমানে দেশের অন্যতম দুর্গমেকশালা লাদাখের সিয়াচেন গ্লেসিয়ার বেস ক্যাম্পে দেশমাতৃকার সেবা করছেন। সম্প্রতি দীর্ঘ ছুটি নিয়ে তিনি নিজের গ্রামে ফিরেছিলেন। গত বুধবার গভীর সন্ধ্যায় জেওয়ার থেকে নিজের গ্রামে ফেরার পথেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক বিপত্তি। জেওয়ারের আরঅ্যান্ডআর টাউনশিপের (R&R Township) কাছাকাছি পৌঁছতেই অন্য একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে রকির বাইকের সামান্য সংঘর্ষ হয়।
ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা:
বাইক সংঘর্ষের পর স্বাভাবিকভাবেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, অপর বাইকচালক জওয়ানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সেই যুবকের দুই সহযোগীও মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তিনজন মিলে আকস্মিক চড়াও হয়ে সেনাজওয়ানকে ঘিরে ধরে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে।
আক্রোশ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আক্রমণকারীরা একটি ধারালো ধাতব বা লোহার বস্তু দিয়ে সজোরে রকির মুখে আঘাত করে। এর ফলে তাঁর নাকের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং প্রচুর রক্তপাত শুরু হয়। এখানেই শেষ নয়, উন্মত্ত গুণ্ডারা একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে তাঁর পায়েও নির্মমভাবে আঘাত করে।
পরিবারের ক্ষোভ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া:
সীমান্তের কড়া পাহারা ছেড়ে ছুটি কাটাতে আসা একজন সেনাসদস্যের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। ঘটনার পরপরই পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত জওয়ানকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে জেওয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আহত জওয়ানের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত সৈনিকের প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পুলিশের জোরদার তদন্ত এবং মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”