দেড় হাজার ফুট ওপর থেকে গোলাপী শহর দেখার রোমাঞ্চ! জয়পুরে পা রাখলেই মিস করবেন না এই অ্যাডভেঞ্চার

‘পিঙ্ক সিটি’ বা গোলাপি শহর হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত রাজস্থানের জয়পুর। ঐতিহাসিক হাওয়া মহল থেকে শুরু করে চোখ জুড়ানো রাজকীয় স্থাপত্য দেখতে সারা বছরই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে এই শহরে। আর এবার পর্যটকদের সেই রোমাঞ্চের অভিজ্ঞতাকে দ্বিগুণ করতে জয়পুরের বুকে যুক্ত হলো এক নতুন ও দুঃসাহসিক অধ্যায়। জয়পুরের কুকাস (Kukas) এলাকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো রোমাঞ্চকর প্যারামোটারিং (Paramotoring) পরিষেবা।
উদ্যোক্তা নিতিন পাঠকের শুরু করা এই নতুন কার্যক্রমে পর্যটকরা একজন অভিজ্ঞ পাইলটের সঙ্গে মোটরচালিত ফ্লাইটে আকাশেড়ার সুযোগ পাবেন। মাটি থেকে প্রায় ১,৫০০ ফুট উচ্চতায় ভেসে থেকে আরাবল্লি পাহাড়ের সুদৃশ্য উপত্যকা এবং চারপাশের মনোরম প্রকৃতির অপূর্ব আকাশ-দৃশ্য বা বার্ডস-আই ভিউ উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। বর্তমানে দিল্লি হাইওয়ের ওপর ডেন্টাল কলেজের নিকটবর্তী একটি খোলা মাঠ থেকেই এই বিমানগুলির উড্ডয়ন করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত শুধুমাত্র সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময়ই পর্যটকদের এই ফ্লাইটে চড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ভাড়া ও সময়সীমা:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্যোক্তা নিতিন পাঠক জানিয়েছেন যে শীতের আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রাইডগুলি সারাদিন ধরেই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে পর্যটকরা ৬ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশপথের রাইড উপভোগ করতে পারছেন। এর মধ্যে—
৬ থেকে ৮ কিলোমিটার রাইডের ভাড়া: ৩৫,০০০ টাকা।
১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাইডের ভাড়া: ৫৫,০০০ টাকা।
সময়সূচি: পর্যটকরা প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে ৯টা এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০টা পর্যন্ত এই রাইডের আনন্দ নিতে পারবেন।
নিরাপত্তা ও শর্তাবলি:
নিরাপত্তার দিকটিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই রোমাঞ্চকর কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে:
৭ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্যারামোটারিং করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এটি শুধুমাত্র ৭ বছরের বেশি বয়সী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য।
ওজনের ক্ষেত্রে, ১৫ কেজি থেকে ১০০ কিলোগ্রামের মধ্যে ওজনের পর্যটকরাই এই ফ্লাইটে অংশ নিতে পারবেন।
এই কার্যক্রমে ব্যবহৃত ইঞ্জিন ও গ্লাইডার সহ সমস্ত অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরাসরি ইতালি থেকে আমদানি করা হয়েছে।
ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত পাইলটরা প্রত্যেকেই APPI এবং ACI সনদপ্রাপ্ত।
যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিদিন আকাশসীমার নির্দিষ্ট অনুমোদন ও ছাড়পত্র নেওয়া হয়। এছাড়া স্থানীয় সমস্ত প্রশাসনিক অনুমতি সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ১ কোটি টাকার থার্ড-পার্টি লাইাবিলিটি বা তৃতীয় পক্ষের দায় বীমা (Third-Party Liability Insurance) করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পথিমধ্যে জরুরি অবতরণের (Emergency Landing) বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।