শীত কি তবে গায়েব? এল নিনোর ছোবলে সর্বকালীন রেকর্ড ভাঙার হুংকার,চরম বিপদের মুখে ভারত!

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার মতিগতি পাল্টে দিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো (El Niño)। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও (WMO) তাদের সাম্প্রতিক গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট (Global Seasonal Climate Update)-এ এক অত্যন্ত উদ্বেগের সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এল নিনো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শক্তি বাড়াবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের আবহাওয়া, তাপমাত্রা এবং সামগ্রিক কৃষিকাজের ওপর।

কী এই এল নিনো এবং ভারতের ওপর এর প্রভাব? এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধির একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। ডব্লিউএমও-র পূর্বাভাস বলছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাস ভারতীয় উপমহাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বিদায় এবং রবি ফসলের চাষ শুরুর ঠিক এই সন্ধিক্ষণে এমন খামখেয়ালি বৃষ্টিপাত কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এর ফলে সেচ ও জলাধারগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব এশিয়া বা মধ্য এশিয়ার কিছু অঞ্চলে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায় তীব্র শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিসেম্বরেও গরমের রেকর্ড? শীত নিয়ে বড় আশঙ্কা: এল নিনোর প্রভাবে শুধু বৃষ্টি কমাই নয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে প্রবল। চলতি বছরের জুনে যেখানে নিনো ৩.৪ সূচকে (Niño 3.4 Index) সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অনুমান করা হচ্ছে, অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে এটি পৌঁছে যেতে পারে প্রায় প্লাস ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ডব্লিউএমও-র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, “এল নিনো সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। ১৯৫০ সালের পর এটি হতে চলেছে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো, যা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে স্থায়ী হতে পারে।” এর জেরে চলতি বছরে শীতের মরশুমেও তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।

কৃষি থেকে স্বাস্থ্য— বহুমুখী সংকটের হাতছানি: ভারতের জন্য আরও একটি উদ্বেগের বিষয় হলো ইতিবাচক আইওডি (Positive IOD), যা অক্টোবরে চরমে পৌঁছে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এল নিনো সমুদ্রের তলদেশে জমে থাকা তাপকে বাইরে বের করে আনে। এর ফলে শুধু আবহাওয়া নয়, ভারতের কৃষি উৎপাদন, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুতের চাহিদা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার যেমন হু হু করে বাড়বে, তেমনই খরা ও গরমজনিত স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলাতেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *