“এবার আগ্নেয়াস্ত্রর লাইসেন্স নেব!”-কার ইশারায় বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা?

আইনজীবী তথা প্রবীণ বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পূর্ব যাদবপুরের বাসভবনে হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ বাইকে চেপে আসা একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে মদের বোতল ছুড়ে জানলার কাচ ভেঙে চুরমার করে দেয় বলে অভিযোগ। এই আকস্মিক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে।
কীভাবে ঘটেছিল হামলা? বিকাশ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরবেলা নম্বর প্লেট ঢাকা একটি বাইকে করে মুখ ঢাকা অবস্থায় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর বাড়ির সামনে এসে হাজির হয়। প্রথমে এক ব্যক্তি স্কুটারে করে এসে জানলার কাচ লক্ষ্য করে একের পর এক মদের বোতলের ঘা মারতে শুরু করে। হামলার সময় দুষ্কৃতীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দেয় এবং তাঁকে উদ্দেশ করে হুমকি দেয়, “আমাদের পিছনে লাগবি না, আমরা দেশভক্ত।” বিকাশবাবুর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ। যে সময় হামলা হয়, ঠিক তার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর গৃহসহায়িকা। বরাতজোরে তিনি অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান।
সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর তথ্য: বাড়ির সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজে পুরো হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, গামছায় মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি বাইক থেকে নেমে ব্যাগ বের করে পরপর বোতল ছুড়ছে। অডিও রেকর্ডেও দুষ্কৃতীদের হুমকির আওয়াজ রেকর্ড হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
‘হিন্দুত্ববাদীদের কাজ’, তোপ বিকাশবাবুর: এই ঘটনার নেপথ্যে ‘হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতী’-দের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এরা যদি সন্ত্রাসী না হয়, তবে কারা? ওই সব সন্ত্রাসীরা জেনে রাখুন, আমাকে ভয় দেখানো যাবে না। এবার আমি আগ্নেয়াস্ত্রর লাইসেন্স নেব।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, এই ঘটনার পেছনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মহলের মদত রয়েছে। যদিও স্থানীয় বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
আইনজীবী মহলে তীব্র উদ্বেগ: ঘটনার পরই যাদবপুর থানায় খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। এদিকে, একের পর এক আইনজীবী ও বাম নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আইনজীবী মহল। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নজরে আনা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে আইনজীবী শামিম আহমেদ ও সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়েও রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়েছিল। একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন উঠতে শুরু করেছে।