“আ গয়ে মেরি মউত কা তামাশা…” চিরবিদায়ে সত্যি হল নানার সিনেমার সেই বিখ্যাত সংলাপ!

হিন্দী ও মারাঠি সিনেমার দাপুটে অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলার বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন দুনিয়ায়।

শেষ মুহূর্তের মর্মান্তিক ঘটনা:

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোরে হঠাৎই বুকে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন অভিনেতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন। বাড়িতেই তাঁকে প্রাথমিক ভাবে সিপিআর (CPR) দেওয়া হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দেওয়ার পরেও শেষরক্ষা হয়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মনিপাল হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সমান্তরাল ধারার অবিসংবাদিত নায়ক:

১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন। তবে ১৯৮৬ সালে ‘অঙ্কুশ’ এবং পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘পরিন্দা’ ছবির গ্যাংস্টার ‘আন্না’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন। তাঁর গলার স্বরের জাদুকরী ওঠানামা, চোখের চাউনি এবং সংলাপ বলার ভঙ্গি ভারতীয় দর্শকের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’, ‘অব তক ছপ্পন’, ‘তিরঙা’ কিংবা মারাঠি মাস্টারপিস ‘নটসম্রাট’— একের পর এক ভিন্ন স্বাদের চরিত্রে নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি। ভিলেনের খলনায়ক রূপ হোক কিংবা জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র বা কমেডি— সব জায়গাতেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু অভিনয়ই নয়, ‘প্রহার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও তিনি সফলতার পরিচয় দিয়েছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন অনন্য; খরা-পীড়িত কৃষকদের সহায়তায় ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তুলে চাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নানা। এছাড়া তাঁকে সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদও প্রদান করা হয়েছিল।

চলতি বছরও ‘ও রোমিও’ ও ‘সুবেদার’-এর মতো প্রজেক্টে দাপটের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর চলে যাওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *