সিনেমায় ২৫০ কোটির লোকসান! দেনায় জর্জরিত রাজপাল যাদবকে বকেয়া মেটাতে কড়া সময়সীমা দিল শীর্ষ আদালত

চেক বাউন্স মামলায় সুপ্রিম কোর্টের চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এ দিন শীর্ষ আদালতের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েন অভিনেতা। তবে শুনানির সময় নিজের ছবির ব্যর্থতা, বিপুল আর্থিক লোকসান ও দেনার কথা বিচারপতির সামনে তুলে ধরেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘শ্রী মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থার সঙ্গে রাজপাল যাদবের এই আইনি বিরোধ বহুদিনের। ২০১০ সালে একটি ছবি তৈরির জন্য ওই সংস্থার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন অভিনেতা। পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরানোর জন্য তিনি ১.০৫ কোটি টাকার সাতটি চেক দিলেও সেগুলি বাউন্স করে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মহনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি অভিনেতার কাছে জানতে চান তিনি বর্তমানে কতগুলি ছবির কাজ করছেন। জবাবে রাজপাল জানান, গত ১৬ বছরে তিনি প্রায় ২৫০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এরপর নিজের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর ‘আতা পাতা লাপতা’ ছবিটি তৈরিতে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও ছবিটি কোনো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি এবং কোনো আয়ও হয়নি। এমনকি তাঁর নতুন ছবির সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘১৬ সাওয়ান ঝেল কে’-র কথাও আদালতকে জানান তিনি।

রাজপালের এই কষ্টের কথা শুনে প্রধান বিচারপতি রসিকতা করে তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, “একটি ভাল ছবি বানান। আমাদের এখানে অনেক আইনজীবী আছেন, যাঁরা বেশ ভাল অভিনয়ও করেন।” তবে রসিকতার পাশাপাশি আইনি কড়াকড়ি বজায় রেখে আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, কেবল পাওনাদার যাতে তাঁদের টাকা ফেরত পান, সেই কারণেই তাঁকে আইনি ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

অভিনেতার আইনজীবী আদালতকে জানান যে ইতিমধ্যেই ১.১৫ কোটি টাকা জমা করা হয়েছে এবং পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির জন্য ক্রেতাও ঠিক হয়ে গেছে। পিতৃপক্ষ ও নবরাত্রির কারণে রেজিস্ট্রি বাকি থাকলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৮৫ লাখ টাকা আরটিজিএস (RTGS)-এর মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়া হবে। সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট রাজপাল যাদবকে চূড়ান্ত সুযোগ দিয়ে অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *