মহালয়ার সকালে কি মুষলধারে ভাসবে তর্পণ?, বর্ষা বিদায় নিয়ে কী বলছে হাওয়া অফিস?

সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন কলকাতার আকাশ। পূর্বাভাস মতোই বুধবার শহর থেকে জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এদিন রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই রয়েছে ঝড়বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা। বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে দমকা ঝোড়ো বাতাস জনজীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে। এমনকি শুক্রবার ও শনিবারও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় মহালয়ার সকালে তর্পণে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর ঠিক আগে কি রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় নেবে? এই বিষয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস পরিষ্কার জানিয়েছেন, বঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে এমন কোনো সম্ভাবনাও নেই। সাধারণত ১০ অক্টোবর থেকে রাজ্যে বর্ষা গুটিয়ে নেওয়ার পর্ব শুরু হয়। সেই হিসেবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৫ তারিখের মধ্যে বর্ষা বিদায় নিতে পারে। ফলে পুজোর পঞ্চমীর আগেই রাজ্য পুরোপুরি বর্ষামুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর দিনগুলোতে পাকাপাকিভাবে আবহাওয়া কেমন থাকবে বা কোনো নিম্নচাপের কালো ছায়া পড়বে কিনা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি আবহাওয়া দফতর।

বর্তমানে বৃষ্টির নেপথ্যে কাজ করছে একগুচ্ছ কারণ। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর তিনটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান করছে। পাশাপাশি ওড়িশা থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখার জেরে সক্রিয় হয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘ। এর ফলেই বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জেলায় চলছে বৃষ্টি ও বজ্রপাত। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা শেষের এই বৃষ্টি সাধারণ একটি প্রক্রিয়া। এই সময়ে বজ্রপাতের তীব্রতা কম থাকলেও ঘন ঘন শব্দে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। উত্তর ভারতসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যেই বর্ষা বিদায় নিলেও বাংলার আকাশে তার রেশ কাটতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। উৎসবের মরশুমে আবহাওয়া কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *