অর্শের যন্ত্রণায় কি রাতে ঘুম হয় না? পেটের বারো বাজাচ্ছে এই ৭ খাবার, আজই মুখ ফেরান!

বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাত্রা, ফাস্ট ফুড নির্ভর খাদ্যাভ্যাস এবং অপর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাসের জেরে অর্শ বা পাইলসের সমস্যা আজকাল ঘরে ঘরে এক মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা প্রাত্যহিক জীবনে চরম অস্বস্তি ও যন্ত্রণার মুখোমুখি হন। চিকিৎসকদের মতে, পাইলসের সমস্যা মূলত কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেই দানা বাঁধে। আর কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় হাত থাকে আমাদের ভুলভাল খাওয়াদাওয়ার। তাই অর্শের যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে হলে জীবনযাত্রার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও বড় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, পাইলসের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিছু নির্দিষ্ট খাবার থেকে শতহস্ত দূরে থাকা উচিত। কারণ এই খাবারগুলি পরিপাকতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে এবং মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে।
পাইলসের রোগীদের যে ৭টি খাবার আজই বর্জন করা উচিত:
১. ময়দা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: বিস্কুট, পাউরুটি, কেক বা ময়দা দিয়ে তৈরি যেকোনো খাবার ফাইবারের অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা পাইলসের রোগীদের জন্য বিষের সমান।
২. অতিরিক্ত তেল ও ভাজাপোড়া খাবার: ফাস্ট ফুড, চিপস, চপ বা শিঙাড়ার মতো ডিপ ফ্রাই করা খাবার হজম হতে অনেক সময় নেয় এবং পেটে গ্যাসের সমস্যা তৈরি করে।
৩. লাল লঙ্কা ও অতিরিক্ত ঝাল: অতিরিক্ত ঝালযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে পরিপাকতন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যার জেরে মলত্যাগের সময় মারাত্মক জ্বালা ও যন্ত্রণা অনুভূত হয়।
৪. রেড মিট বা খাসির মাংস: রেড মিটে ফাইবারের পরিমাণ শূন্য এবং চর্বি অনেক বেশি থাকে, যা হজম করতে গিয়ে পেট ও অন্ত্রে প্রচণ্ড চাপ পড়ে।
৫. প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত মাংস: সসেজ বা সালামির মতো অতিরিক্ত নুন ও কেমিক্যালযুক্ত খাবার শরীরে জলের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উসকে দেয়।
৬. দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: অনেকেরই ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের সমস্যা থাকে। অতিরিক্ত চিজ, মাখন বা ছানা খেলে পেট ফাঁপা এবং হজমের গোলমাল হতে পারে।
৭. অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও সোডা: চা, কফি বা কোল্ড ড্রিংকস শরীরকে ভিতর থেকে শুষ্ক (ডিহাইড্রেট) করে দেয়, যার ফলে মলের আর্দ্রতা কমে গিয়ে অর্শের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়।
সুস্থ থাকার উপায়:
পাইলসের যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি পেতে প্রতিদিনের ডায়েটে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল, স্যালাড, ফলমূল এবং সবুজ শাকসবজির মতো ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার রাখা বাধ্যতামূলক। তবে শারীরিক পরিস্থিতি যদি গুরুতর হয়, তবে নিজে থেকে ঘরোয়া টোটকা না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।