আত্মহত্যা নাকি খুন? দিশা সালিয়ান মামলায় নতুন আইনি জটিলতা, সিবিআই তদন্ত ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে

বম্বে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ আসার পর থেকেই ফের শিরোনামে উঠে এসেছে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর ঘটনাটি। ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাড এলাকায় একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে মৃত্যু হয় দিশার। বর্তমানে সিবিআই এই মামলাটির তদন্ত করছে। এর মাঝেই দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান আদালতের গত ২ সেপ্টেম্বরের আদেশে থাকা একটি বিশেষ শর্ত বাতিল বা স্পষ্ট করার দাবিতে বোম্বে হাইকোর্টে নতুন করে আবেদন জানিয়েছেন।
বম্বে হাইকোর্ট এর আগে সিবিআইকে দিশার মৃত্যুর ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে যদি যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের পর্যাপ্ত কারণ না থাকে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
দিশার বাবার আপত্তির কারণ কী?
সতীশ সালিয়ান নতুন আবেদনে দাবি করেছেন যে, আদালতের এই নির্দিষ্ট শর্তটি তাঁর মামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এর সুযোগ বা অপব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাই তিনি আদালতের কাছে এই শর্তটি হয় সম্পূর্ণ অপসারণ করার অথবা বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুরু থেকেই স্থানীয় পুলিশ এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) দিশার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে এডিআর (দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রতিবেদন) দাখিল করেছিল। তবে দিশার বাবা প্রথম থেকেই এই তত্ত্ব খারিজ করে আসছেন এবং তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে জোরালো দাবি করে আসছেন। এমনকি তিনি এই মৃত্যুকে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর সঙ্গেও যোগ করেছেন। দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর মাত্র ছয় দিন পর রহস্যজনকভাবে মারা গিয়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত।
সিবিআই তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি
তদন্তে পদ্ধতিগত ত্রুটি ও বেশ কিছু সন্দেহজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে হাইকোর্ট মামলার দায়িত্ব সিবিআইকে হস্তান্তর করেছিল। আদালতের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই এফআইআর থেকে সন্দেহভাজন সংক্রান্ত ধারা পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, তদন্তের সময় যতক্ষণ না পর্যন্ত জোরালো ও পর্যাপ্ত প্রমাণ মিলছে, ততক্ষণ কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশ ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে নতুন আইনি বিতর্ক।