চার বছরের মধ্যে প্রথম ঝটকা! রেপো রেট বাড়িয়ে বড় ঘোষণা রিজার্ভ ব্যাংকের, কিস্তির বোঝা কি বাড়ল?

দীর্ঘ প্রায় চার বছর বিরতির পর দেশের মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের বদল আনল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং টাকার অবমূল্যায়নের জেরে বুধবার রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করা হয়েছে। আরবিআই-এর ছয় সদস্যের মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC) ৪-২ বিভক্ত ভোটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকের পক্ষ থেকে নীতিগত অবস্থান ‘নিরপেক্ষ’ থেকে পরিবর্তন করে ‘পরিমার্জিত কঠোরতা’-তে রূপান্তর করা হয়েছে, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনে সুদের হার আরও বাড়তে পারে।
মুম্বাইয়ে অবস্থিত আরবিআই সদর দপ্তর থেকে আয়োজিত এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বিশ্ব অর্থনীতির চারটি প্রধান প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, শুল্ক সংক্রান্ত তীব্র অনিশ্চয়তা, বন্ডের ফলন বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) স্টকগুলির মূল্যায়নে বড় পতনের ঝুঁকি গোটা বিশ্বকে এক অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে চার বড় মেঘ
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত: অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র ওঠানামা এবং জ্বালানি খরচের ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুল্ক ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা: বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাস হওয়া নতুন আইন ভারতীয় পণ্যের ওপর কড়া শুল্ক আরোপের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি: উন্নত অর্থনীতিগুলিতে বন্ডের ফলন বিগত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব বাজারে ডলারকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
এআই স্টক ও আস্থার সংকট: সাম্প্রতিক সময়ে এআই স্টকের মূল্য পতনের জেরে গোটা প্রযুক্তি শিল্পখাতে এক বিরাট অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
কঠিন সময়েও ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী
গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা যথেষ্ট মজবুত রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই সুদের হার বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের হোম লোন বা অন্যান্য ঋণের কিস্তি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে মধ্যবিত্ত মহলে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।