“৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা”- FIR বিজেপির BLA-র বিরুদ্ধে

তেলঙ্গানায় ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে জলঘোলা অব্যাহত। এবার ভোটার তালিকা থেকে বিশেষ একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছেঁটে ফেলার চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক বুথ লেভেল এজেন্টের (BLA) বিরুদ্ধে। হায়দরাবাদের মুশিরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের ২১০ নম্বর পোলিং স্টেশনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিজেপি এজেন্টের নাম যুক্ত হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো রাজ্যে।

কীভাবে ফাঁদ পাতা হয়েছিল?

পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বিজেপি এজেন্টের নাম এস বালাচন্দ্র। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি আগে থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে প্রিন্ট করা ৩০টি ‘ফর্ম-৭’ (যা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের কাজে ব্যবহৃত হয়) নিয়ে ২১০ নম্বর পোলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও (BLO) এবং সুপারভাইজারের কাছে জমা দিতে যান। তাঁর দাবি ছিল, ফর্মে উল্লেখিত ওই ৩০ জন ভোটারের সঙ্গে তিনি একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি, ফলে তাঁরা ভুয়ো বা অনুপস্থিত ভোটার। তাই তালিকা থেকে তাঁদের নাম দ্রুত বাদ দেওয়া হোক।

তবে এক সঙ্গে অতগুলি ‘ফর্ম-৭’ দেখে সন্দেহ জাগায় বুথ লেভেল অফিসার সেটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এতেই চটে গিয়ে সবকটি ফর্ম পোলিং স্টেশনেই ফেলে রেখে চম্পট দেন ওই বিজেপি এজেন্ট।

তদন্তে বিস্ফোরক সত্য প্রকাশ!

ঘটনার পরেই গত ১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা সরাসরি মুশিরাবাদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত চালান। কমিশন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান, যে ৩০ জন ভোটারের নাম ভুয়ো বলে দাবি করা হয়েছিল, তাঁরা প্রত্যেকেই বছরের পর বছর ধরে নিজেদের নির্দিষ্ট ঠিকানাতেই বসবাস করছেন।

আরও তাজ্জব বিষয় হলো, বিজেপির ওই এজেন্ট যাঁদের নাম তালিকা থেকে মোছার আর্জি জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে খোদ কংগ্রেসের স্থানীয় বুথ লেভেল এজেন্ট শফিউদ্দিন এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও শামিল ছিল!

বিজেপি এজেন্টের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ

মুশিরাবাদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) টি প্রবীণ কুমার রেড্ডির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর স্থানীয় চিক্কাদপল্লি থানার পুলিশ বিজেপি নেতা এস বালাচন্দ্রের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে।

তাঁকে অভিযুক্ত করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ২১৭ এবং ৩১৮(২) নম্বর ধারা (ভুল তথ্য সরবরাহ ও প্রতারণা) এবং ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় (নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ও অসত্য ঘোষণা) মামলা রুজু হয়েছে।

কমিশনের কড়া বার্তা ও অন্যান্য কেন্দ্রের ছবি

তেলঙ্গানায় এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর এটিই পুলিশের প্রথম অফিশিয়াল এফআইআর। শুধু মুশিরাবাদই নয়, হায়দরাবাদের বাহাদুরাপুরা এবং গোশামহল থেকেও একই কায়দায় গণহারে নাম বাদ দেওয়ার আর্জি জমা পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার জল গড়াতেই গত ৫ অক্টোবর তেলঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সি সুদর্শন রেড্ডি সমস্ত জেলা নির্বাচনী কর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ভোটার তালিকার ৬, ৬এ, ৭ বা ৮ নম্বর ফর্মে কেউ কোনো রকম মিথ্যা বা ভুল তথ্য জমা দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের তরফে এই যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ খারি জ করা হয়েছে। দলের পাল্টা বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সত্যি যদি কেউ আইন ভেঙে থাকে, তবে কমিশন প্রমাণ সামনে এনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *