পুরভোটের আগেই কলকাতা কর্পোরেশনে বিরাট ধাক্কা! একধাক্কায় ১০ শীর্ষ কর্মকর্তার দপ্তর বদল, নেপথ্যে প্রশাসক?

আসন্ন পুরসভার মেগা নির্বাচনের ঠিক মুখেই কলকাতা পুরনিগমের (KMC) অন্দরে ঘটে গেল বিরাট রদবদল। প্রশাসনিক স্তরে রুটিন রদবদলের কথা বলা হলেও, এক ধাক্কায় ১০ জন শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক তথা ডিরেক্টর জেনারেলের (DG) দপ্তর পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে পুর প্রশাসনিক মহলে। বর্তমান প্রশাসক স্মিতা পান্ডের নির্দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
কারা পেলেন নতুন দায়িত্ব? দেখে নিন পরিবর্তনের তালিকা:
শুভাশিস ভট্টাচার্য: সফাই এবং জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের প্রাক্তন ডিজি শুভাশিস ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ওই পদে থাকার পর প্রশাসকের বিরাগভাজন হন বলে খবর। কয়েক মাস আগে তাঁকে কেএমসি-শার্প (KMC-SHARP) বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। এবার সেখান থেকেও সরিয়ে তাঁকে কর্পোরেশনের স্টোর অ্যান্ড পার্চেস বিভাগের ডিজি করা হয়েছে।
সুকান্ত দাস: সড়ক বিভাগের দায়িত্বে থাকা সুকান্ত দাসকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এমপি ল্যাড (MP LAD) এবং অ্যাসফাল্টাম বিভাগের দায়িত্বে।
শুভজিৎ দাশগুপ্ত: সুকান্ত দাসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সড়ক বিভাগের নতুন ডিজি করা হয়েছে শুভজিৎ দাশগুপ্তকে।
উজ্জ্বল কুমার সরকার ও বিপ্লব পাল: বিল্ডিং বিভাগের ডিজি পদে থাকা উজ্জ্বল কুমার সরকারকে উত্তরণ (বস্তি) বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় বিল্ডিং বিভাগের কার্যনির্বাহী ডিজি (Executive DG) করা হয়েছে বিপ্লব পালকে।
বিষ্ণু দাস মণ্ডল: মেকানিক্যাল বিভাগের ডিজি বিষ্ণু দাস মণ্ডলকে অ্যাসফাল্টাম থেকে সরিয়ে অতিরিক্তভাবে কারপুল (Carpool) দেখভালের দায়িত্ব সামলাতে দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য রদবদল: উদ্যান বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্জয় সরকারকে। ওই বিভাগ থেকে সরিয়ে শান্তনু রায়কে পাঠানো হয়েছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। বাজার বিভাগের কার্যনির্বাহী ডিজি করা হয়েছে মৃদুল মণ্ডলকে এবং মৃণালকান্তি মণ্ডলকে পাঠানো হয়েছে কেএমসি-শার্পে।
কেন এই আকস্মিক বদলি?
কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে এই বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো বিশেষ কারণ দর্শানো হয়নি। তবে পুরসভার এক প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এটি মূলত একটি রুটিন প্রসেস। অতীতে বহু আধিকারিক বছরের পর বছর একই বিভাগে বহাল থাকতেন। কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ বছরের বেশি সময় কেউ একই পদে থাকতে পারবেন না। কাজের গতি ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে স্থায়ী দায়িত্ব না দিয়ে কার্যনির্বাহী ডিজি করে রাখা এবং নির্বাচনে ঠিক আগেই এই রদবদল ঘিরে পুর অন্দরে জল্পনার পারদ তুঙ্গে।