অন ক্যামেরায় পুলিশকে কুকথা? শেষরক্ষা হলো না হুমায়ুনের, নতুন মামলায় বিপাকে বিধায়ক!

রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনকে কড়া ভাষায় আক্রমণের জেরে এবার নতুন করে আইনি জাঁতাকলে জড়ালেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভোটের দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের হুমকি ও মহিলাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী মন্তব্যের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এবার বিধাননগর সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো। বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি ই-মেলের মাধ্যমে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঠিক কী অভিযোগে দায়ের হলো মামলা?

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সকালে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মারাত্মক সীমা লঙ্ঘন করেন হুমায়ুন কবীর।

  • পুলিশকে সরাসরি হুমকি: ক্যামেরার সামনে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে প্রকাশ্যেই হিংসাত্মক ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

  • মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিকর আক্রমণ: সাংবাদিকরা তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এমন আপত্তিকর শব্দ প্রয়োগ করেছেন যা নারীজাতির মর্যাদাকে চরম হেয় করে।

  • নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ: অভিযোগকারীর মতে, হুমায়ুন কবীরের এই আচরণ এবং মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি (MCC) এবং বাধ্যতামূলক নির্দেশিকার স্পষ্ট ও ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন।

গ্রেফতারির পর মুক্তি, কিন্তু কাটেনি জটিলতা

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোটের দিন সকালেই ভোট কারচুপি ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরব হন হুমায়ুন। এরপর রেজিনগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ তাঁকে প্রথমে আটক এবং পরে টানা হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে গ্রেফতার করে রেজিনগর থানায় নিয়ে যায়। যদিও মঙ্গলবার রাতেই থানা থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

তবে থানা থেকে ছাড়া পেলেও সাইবার থানায় নতুন করে ই-মেল মারফত অভিযোগ জমা পড়ায় হুমায়ুন কবীরের আইনি চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বিষয়ে বিধাননগর সাইবার থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *