বন দপ্তরের হাতে কৃষকের ট্রাক্টর জব্দ! ২০০ গ্রামবাসীকে নিয়ে ১০ ঘণ্টা ধর্নায় বিজেপি বিধায়ক, মধ্যরাতে ছুটলেন কালেক্টর-এসপি

মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলার চিত্রকূট বিধানসভা এলাকায় বন দপ্তর ও স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের মুখোমুখি সংঘাতকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক আদিবাসী কৃষকের জমি চাষের ট্রাক্টর বাজেয়াপ্ত করার প্রতিবাদে বন দপ্তরের কার্যালয়ের সামনে ২০০-রও বেশি গ্রামবাসীকে নিয়ে অবস্থান ধর্মঘটে বসেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং গাহাড়ওয়ার। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিষয়টি সামাল দিতে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে দৌড়াতে হয় জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের।

কী ঘটেছিল মাঝগাওয়ানে? ঘটনাটি মাঝগাওয়ান বন রেঞ্জের করারিয়া বিটের চুনহাহার এলাকার। বন বিভাগের দাবি, পি-৮৩০ নম্বর কম্পার্টমেন্টের সংরক্ষিত বনভূমিতে রাতের অন্ধকারে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সংশ্লিষ্ট কৃষকদের জমির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলেন। কৃষকরা বৈধ দলিল দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯২৭ সালের ভারতীয় বন আইনের অধীনে মামলা দায়ের করে নম্বরবিহীন ট্রাক্টরটি জব্দ করে বন দপ্তর।

কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে বিধায়কের বিক্ষোভ ট্রাক্টর জব্দের খবর পাওয়া মাত্রই ২০০-রও বেশি আদিবাসী গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাঝগাওয়ান রেঞ্জ অফিসে পৌঁছান চিত্রকূটের বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং গাহাড়ওয়ার। তিনি অবিলম্বে জব্দ করা ট্রাক্টরটি ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। তবে বন কর্মকর্তারা আইনি বাধ্যবাধকতার কথা বলে তা প্রত্যাখান করলে বিধায়ক কার্যালয় চত্বরেই ধর্নায় বসে পড়েন।

বিধায়ক অভিযোগ করেন, “দরিদ্র ও আদিবাসী কৃষকদের অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে। একজন কৃষক দিনে চাষ করবেন না রাতে, তা তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজন। শুধুমাত্র রাতে ট্রাক্টর চালানোর অজুহাতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় না।”

তপ্ত বাক্যযুদ্ধ ও প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ বিক্ষোভ চলাকালীন বিধায়ক ও বন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়। অন্যদিকে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়— রাতে ট্রাক্টর চালানোর জন্য নয়, বরং সরকারি বনভূমি বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টার অপরাধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধর্না চলার পর এবং বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দেন— “ট্রাক্টর না ছাড়লে আমাদের রাতটা এখানেই কাটাতে হবে।” পরিস্থিতি জটিল রূপ নিলে বিধায়ক সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদবের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপরই মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাতনার কালেক্টর ডঃ সতীশ কুমার এস এবং পুলিশ সুপার হংসরাজ সিং।

পরবর্তী পদক্ষেপ উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে মধ্যরাতের দিকে বিধায়ক তাঁর প্রতিবাদ তুলে নেন। তবে আপাতত আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ট্রাক্টরটি বন দপ্তরের হেফাজতেই রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *