বিবাহিত ছেলের জীবনে মায়ের অতিরিক্ত অধিকারবোধ কতটা স্বাভাবিক? পরিবারে অশান্তি এড়ানোর জাদুকরী উপায়!

নতুন সংসার শুরু হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে ওঠাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সম্পর্কে যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির ছায়া দীর্ঘায়িত হতে শুরু করে, তবেই বাঁধে বিপত্তি। বিশেষ করে ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় বিয়ের পরও বিবাহিত ছেলের জীবনে মায়ের মাত্রাতিরিক্ত অধিকারবোধ বা নাক গলানোর প্রবণতা নিয়ে বহু পরিবারেই অশান্তি লেগেই থাকে। প্রশ্ন হল, এই পরিস্থিতি কি আদৌ স্বাভাবিক, নাকি এটি পরোক্ষভাবে একটি সুন্দর সংসারকে ভেঙে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট? পারিবারিক সম্পর্ক ও মনোবিদদের মতে, মা ও ছেলের গভীর ভালোবাসার জায়গাটি এক হলেও, বিয়ের পর তার সীমারেখা টানা অত্যন্ত জরুরি।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, বিবাহিত জীবনে মায়ের এই অতিরিক্ত অধিকারবোধ ঠিক কতটা যুক্তিসংগত এবং এই জটিলতা থেকে কীভাবে মুক্তি মিলতে পারে:

১. ভালোবাসার টান বনাম অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ:
মা হিসেবে ছেলের প্রতি স্নেহ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু বিয়ের পর ছেলেও যে একটি নতুন পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে এবং তাঁর নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে, তা অনেক মা মেনে নিতে পারেন না। রান্না থেকে শুরু করে ঘরের ছোটখাটো সিদ্ধান্ত—সব কিছুতেই মায়ের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নবদম্পতির সম্পর্কে তিক্ততা বাড়িয়ে দেয়।

২. মানসিক দূরত্ব ও দাম্পত্যের টানাপোড়েন:
স্ত্রীর বদলে মায়ের কথায় সবকিছু পরিচালিত হলে স্বামীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। এর জেরে স্ত্রী অবহেলিত বোধ করেন এবং স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত আলগা হতে শুরু করে। মনোবিদদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা বিবাহবিচ্ছেদের মতো মারাত্মক পরিণতিও ডেকে আনতে পারে।

৩. সুস্থ সীমানা বা ‘হেলদি বাউন্ডারি’ বজায় রাখা:
সংসার সুখের করতে হলে মা ও স্ত্রী উভয়কেই তাদের নিজস্ব জায়গা ও সম্মান দিতে হবে। ছেলেকে বুঝতে হবে যে মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই স্ত্রীকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা দেওয়া দরকার। অন্যদিকে, মায়েদেরও এই পরিবর্তন সহজভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
পরিবারের শান্তি বজায় রাখতে খোলামেলা আলোচনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার কোনো বিকল্প নেই। মায়েদের যেমন বুঝতে হবে ছেলের সংসার আলাদা, তেমনই দম্পতিদেরও ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। সামান্য বোঝাপড়াই পারে একটি ভাঙনের হাত থেকে সুন্দর পরিবারকে রক্ষা করতে!

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *