আবহাওয়া বদলালেই কি মনখারাপ ঘিরে ধরে? ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বিষণ্ণতার এই মারাত্মক যোগ জানলে চমকে যাবেন!

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টাতে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় সর্দি-কাশি কিংবা জ্বর তো লেগেই থাকে, কিন্তু এর পাশাপাশি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও যে মারাত্মক প্রভাব পড়ে, সেকথা কি জানেন? অনেকেই লক্ষ্য করেছেন যে গরম থেকে শীত বা এক ঋতু থেকে অন্য ঋতুতে পরিবর্তনের সময় হঠাৎ করেই মন কেমন যেন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, কোনো কাজেই আগ্রহ পাওয়া যায় না এবং এক অজানা বিষণ্ণতা বা অবসাদ গ্রাস করে। কিন্তু ঠিক কেন এমনটা হয়? এর নেপথ্যে কি শুধুই মনস্তাত্ত্বিক কারণ, নাকি লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বড় বৈজ্ঞানিক রহস্য?

চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি (Biological Clock) এবং হরমোনের স্তরের সরাসরি যোগ রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ঠিক কী কী কারণে ঋতু বদলের এই সময়ে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন হঠাৎ করে বহুগুণ বেড়ে যায়:

১. সূর্যালোকের অভাব ও মেলাটোনিনের তারতম্য:
আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দিনের আলোর দৈর্ঘ্য কমতে শুরু করে। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো বা রোদ গায়ে না লাগলে মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ (Serotonin)—যাকে ‘সুখের হরমোন’ বলা হয়, তার ক্ষরণ অনেকটাই কমে যায়। অন্যদিকে, ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’-এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শরীরে সবসময় একটা ক্লান্তি ও মনমরা ভাব বজায় থাকে।

২. ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি:
সূর্যের আলোর সংস্পর্শে কম আসার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি সরাসরি দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া এবং মানসিক অবসাদের সঙ্গে ওপ্রোতোভাবে যুক্ত।

৩. জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ব্যাহত হওয়া:
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ও জাগরণের প্রাকৃতিক চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদম গোলমেলে হয়ে যায়। ঘুম ঠিকমতো না হলে বা শরীরের মেটাবলিজম ধীরগতির হয়ে পড়লে মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

৪. সামাজিক ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন:
গ্রীষ্ম বা বসন্তের রোদোজ্জ্বল দিনগুলির তুলনায় ঠান্ডা বা বৃষ্টির মরশুমে মানুষ সাধারণত ঘরের ভেতরে বন্দি থাকতে বেশি পছন্দ করে। সামাজিক মেলামেশা কমে যাওয়া এবং একাকীত্ব বোধ করার ফলেও মনে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতা বাসা বাঁধতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টাতে সামান্য মনখারাপকে অবহেলা না করে প্রতিদিন সকালে কিছু সময় রোদ পোহানো, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা যোগাসন করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। তবে এই অবসাদ বা বিষণ্ণতা যদি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয় এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তবে দেরি না করে অবিলম্বে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *