দুই দশক ধরে চলা মামলার হঠাৎ ইন্তকাল! সুপ্রিম কোর্টের এই চরম সিদ্ধান্তে হতবাক আইনিমহল

আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিশেষাধিকার (Legislative Privilege) সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি মামলার শুনানিতে বড়সড় নাটক ও অপ্রত্যাশিত পরিণতি দেখল সুপ্রিম কোর্ট। প্রায় দুই দশক ধরে বিচারাধীন থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে সেটিকে ‘নিষ্ফল’ ও নিছক ‘তাত্ত্বিক বিষয়’ বলে খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

ঠিক কী কারণে খারিজ হল মামলা?
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভার একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছর পর মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে যে, ওই বিতর্কিত প্রস্তাবটি আসলে ২০০৪ সালেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল!

বিচারপতিরা উল্লেখ করেন, যখন বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়েছিল, তখন বিষয়টি আদালতের নজরে আসেনি। কিন্তু যেহেতু মূল প্রস্তাবটি বহু আগেই বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাই এই মামলার আর কোনো আইনি প্রাসঙ্গিকতা বা কার্যকারিতা অবশিষ্ট নেই। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, আদালত কেবল তাত্ত্বিক বা কাল্পনিক আলোচনা করে মূল্যবান সময় নষ্ট করবে না। তবে আইনের জটিল প্রশ্নগুলি ভবিষ্যতের জন্য অন্য কোনো উপযুক্ত মামলায় নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে খোলা রাখা হয়েছে।

আইনজীবীদের মজার মন্তব্য ও রেকর্ড ভাঙা শুনানি
আদালতে এই তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর এক লহমায় পরিবেশ হালকা হয়ে যায়। প্রবীণ আইনজীবী এ এম সিংভি রসিকতা করে মন্তব্য করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য রেকর্ড—যেখানে সাতজন বিচারপতির মতো হেভিওয়েট বেঞ্চে কোনো মামলার সবথেকে সংক্ষিপ্ত শুনানি ও দ্রুততম নিষ্পত্তি ঘটল! সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একমত হয়ে জানান যে, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি এখন পুরোপুরি তাত্ত্বিক পর্যায়ে চলে গেছে।

আরেক প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল অবশ্য মত প্রকাশ করেন যে, আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিশেষাধিকারের অপব্যবহার রোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই মামলার বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা তাত্ত্বিক মাত্র। শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান যে, সাত বিচারপতির এই বিশেষ সাংবিধানিক বেঞ্চটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং সেই সময়টিকে বর্তমানে বিচারাধীন অন্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির দ্রুত শুনানির কাজে ব্যবহার করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *