“চার প্রজন্ম ধরে রাজতন্ত্র চলছে!” ভোটের তালিকা থেকে রাহুল গান্ধীর ভাষা—কংগ্রেসকে তুলোধোনা সুধাংশুর

আজ যখন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা এসআইআর (SIR) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে রাজপথে নেমেছেন, ঠিক তখনই আক্রমণাত্মক মেজাজে বিরোধী শিবিরকে নিশানা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দলের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপি সাংসদ তথা জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া ও মৃত ভোটারদের ভোটাধিকার দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সোচ্চার হয়েছেন তিনি।
দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সুধাংশু ত্রিবেদী কংগ্রেস দলের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যাচাই-বাছাই না করে এমন ব্যক্তিদের ভোটাধিকার প্রদানে কেন সমর্থন জানাচ্ছে হাত শিবির, যারা নিজ এলাকা থেকে অনুপস্থিত, অন্যত্র চলে গেছেন, মৃত অথবা একাধিকবার নিবন্ধিত? এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলটি কাদের সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ও রাজতন্ত্রের প্রসঙ্গ
ভিত্তিহীন দাবি করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে কংগ্রেস নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপি মুখপাত্র। তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, দলটির নেতৃত্ব বরাবরই গণতন্ত্রকে দমন করে সেখানে বংশীয় শাসন বা রাজতন্ত্র চালু রেখেছে। সুর চড়িয়ে সুধাংশু বলেন, “আমাদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রথম পরিবার গত চার প্রজন্ম ধরে গণতন্ত্রের আড়ালে রাজতন্ত্র চালিয়ে আসছে এবং গণতন্ত্রকে দমন করছে।” একইসঙ্গে রাহুল গান্ধীর আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, বিরোধী নেতৃত্ব ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
কংগ্রেসের পুরনো বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে তোপ
ভোটার তালিকায় একই নামের পুনরাবৃত্তি নিয়ে অতীতে কংগ্রেস নেতাদের করা বিভিন্ন মন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলটির দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন সুধাংশু ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী নিজে এবং তাঁর বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা যেমন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, অশোক গেহলট, শচীন পাইলট ও কে.সি. ভেনুগোপাল বলেছেন যে অনেক জায়গায় ভোটার তালিকায় একই নাম একাধিকবার দেখা যাচ্ছে। তাই আমরা তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে চাই: আপনারা কি ২০১৬, ২০১৮, ২০২০ এবং ২০২১ সালে সঠিক ছিলেন, নাকি আজও সঠিক? কংগ্রেসের স্পষ্ট করা উচিত যে তারা তখন সত্যি বলছিল, নাকি আজও সত্যি বলছে।”
দেশের কতগুলো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবে কংগ্রেস?
এদিন বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার কাঠগড়ায় তোলার অভিযোগও তোলেন সুধাংশু। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “আমি জানতে চাই, কংগ্রেস এ পর্যন্ত ভারতের কতগুলো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে? এক ডজন? আধ ডজন? দুই ডজন? ভারতীয় সেনা থেকে শুরু করে বিমান বাহিনী, জাতীয় নিরাপত্তা, এলআইসি, এইচএএল, এসবিআই, সেবি, ভ্যাকসিন, বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যম—কংগ্রেস এবং বিশেষ করে রাহুল গান্ধী দেশের কতগুলো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন, তা নিয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। বিদেশে গিয়েও তাঁরা এসব কথা বলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।”
দিল্লিতে জোটের প্রতিবাদের আবহে সুধাংশু ত্রিবেদীর এই ঝাঁজালো মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।