প্রি-ওয়েডিং শুটের হটস্পট থেকে সোজা বায়োডায়ভার্সিটি পার্ক! রূপ বদলাচ্ছে এই বিখ্যাত জলাভূমির

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের দৌলতে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে ওঠা উত্তর ২৪ পরগনার ‘বর্তির বিল’ এবার পেতে চলেছে এক নতুন রূপ। বারাসত ও বারাকপুরের মাঝের এই বিশাল জলাভূমিকে পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে এবার বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করল রাজ্য প্রশাসন। জানা গিয়েছে, এই বিলকে একটি আধুনিক ‘অ্যাকোয়া বায়োডায়ভার্সিটি পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোভিড পরবর্তী সময়ে উত্তর ২৪ পরগনার ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে অন্যতম সেরা উইকেন্ড ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে এই বর্তির বিল। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে বিকেলবেলা প্রকৃতির কোলে কিছুটা সময় কাটাতে আমডাঙা ব্লকের বেড়াবেড়িয়া পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় সাড়ে ৪৫০ একরজুড়ে বিস্তৃত এই জলাশয়ে ভিড় জমান শত শত মানুষ। বর্তমানে গোটা দক্ষিণবঙ্গজুড়েই এই এলাকার নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তির বিলের মূল আকর্ষণ হলো এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এখানে নৌকা বিহারের পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যা চলে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি। রাজ্যের অন্যান্য জলাভূমির তুলনায় এই বিলের বিশেষত্ব হলো, এর পুরো জলতল জুড়ে থাকে সাদা ও লাল শাপলা এবং শালুক ফুলের মেলা। বিশেষ করে বিয়ের আগে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য যুগলদের প্রথম পছন্দ এখন এই শাপলার দেশ। প্রতি বছর পুজোর ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ওঠে এই ছবির মতো সুন্দর জায়গাটি।

বর্তির বিলের এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বজায় রেখেই তাকে ‘অ্যাকোয়া বায়োডায়ভার্সিটি পার্ক’ হিসেবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষার শেষে এই জলে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। পাশাপাশি, পুজোর সময় থেকেই দেশের নানা প্রান্তের পরিযায়ী পাখিরাও এই বিলে ভিড় জমায়। এই সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করেই পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে জলাভূমিটির চারপাশের প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে সবুজায়নের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ওই এলাকায় প্রায় ৩,০০০ দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যার সূচনাপর্ব হিসেবে ইতিমধ্যেই ৫০টি কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করা হয়েছে।

পর্যটনের এই প্রসারের ফলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা। তবে একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্যচাষ এবং জলাভূমির জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, সন্ধ্যার পর এলাকায় যাতে কোনো রকম অসামাজিক কার্যকলাপ বা অবৈধ কারবার না চলে, সে বিষয়েও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের এই সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই ওই চত্বরে পুলিশের নিয়মিত ঝটিকা অভিযান শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *