‘মা হওয়ার ক্ষমতা…’, কতটা মারাত্মক ছিল সৃজলার আঘাত? বিবরণ দিলেন অভিনেত্রী

‘বিগ বস’-এর (Bigg Boss) ঘরে প্রতিদিন রঙ বদলাচ্ছে প্রতিযোগীদের সমীকরণ। কে কখন কার বন্ধু বা শত্রু হয়ে উঠছে, তা অনুমান করা কঠিন। তবে সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় রিয়্যালিটি শো-এর অন্দরমহল তো বটেই, বাইরেও শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। কয়েকদিন আগে ক্যাপ্টেনসি টাস্কের সময় নন্দিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে কাঠের ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন অভিনেত্রী সৃজলা গুহ। হাসপাতালে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে মনের জোরে শোয়ে কামব্যাক করলেও, সেই আঘাতের যন্ত্রণা যে কতটা গভীর ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী।

মনের কথা বলার খেলায় বিস্ফোরক সত্য প্রকাশ

সোমবার বিগ বসের বিশেষ নির্দেশে একটি ‘মনের কথা’ প্রকাশের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিযোগীকে একে অপরের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ লিখিত আকারে জমা দিতে হয়। জিতু, মনামী ও রাজবীর থেকে শুরু করে তনুশ্রী—সকলেই নিজেদের অভিযোগপত্রে নানা কথা তুলে ধরেন। তনুশ্রী তাঁর চিঠিতে সৃজলাকে অনুরোধ করেন যে, নন্দিনী নিজের ভুল বুঝতে পেরে ইতিমধ্যেই অনুতপ্ত হয়েছেন, তাই সৃজলার উচিত তাঁকে মন থেকে ক্ষমা করে দেওয়া।

কিন্তু এই কথা শোনার পরেই মেজাজ হারান সৃজলা। তনুশ্রীর অনুরোধে ঘোর আপত্তি জানিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নন্দিনীকে ক্ষমা করার মতো জায়গায় তিনি এখনও পৌঁছাতে পারেননি।

“মাতৃত্বের সুখ থেকে বঞ্চিত হতে পারতাম”

তানুশ্রীর চিঠির জবাবে নিজের চোটের ভয়াবহতা তুলে ধরে সৃজলা জানান, ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার ফলে তাঁর শরীরে যে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ আঘাত লেগেছিল, তাতে তিনি মা হওয়ার ক্ষমতাও চিরতরে হারিয়ে ফেলতে পারতেন! এই চরম ও নিষ্ঠুর সত্য প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বিগ বসের ঘরে। তবে টাস্কের প্রয়োজনে তিনি নন্দিনীর সঙ্গে পেশাদারভাবে কথা বলবেন, কিন্তু মনের দিক থেকে তাঁকে ক্ষমা করা এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে অসম্ভব।

কী ঘটেছিল সেই দিন?

ক্যাপ্টেনসি টাস্ক চলাকালীন নন্দিনী সৃজলাকে কাঠের ঘোড়া থেকে নামানোর সময় তীব্র ধাক্কা মারেন, যার জেরে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে যান সৃজলা। পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাঁকে টানা ৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হয়েছিল। যদিও নন্দিনী বারবার প্রকাশ্যে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং অনুতপ্ত হয়েছেন, তবুও সৃজলার মনে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনও মলেনি। সবমিলিয়ে বিগ বসের ঘরে এই নতুন বিতর্ক এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *