বিধায়কের বাংলো পরিষ্কার করতে নামল দমকলের জরুরি গাড়ি! ২৬ কিমি দূরের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল

জরুরি পরিষেবার গাড়িকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে গুজরাটের দাহোদ (Dahod) জেলায়। দেবগড় বারিয়া (Devgadh Baria) বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বাচুবাই খাবাড়ের (Bachubhai Khabad) বাংলোর দেওয়াল ও চত্বর ধুতে ফায়ার টেন্ডার বা দমকলের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। যদিও জলঘোলা হতেই শেষ পর্যন্ত বিধায়কের পরিবার থেকে ২,৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে খবর এবং মিউনিসিপ্যাল আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে একটি ‘ফায়ার কল’ বা আগুন লাগার খবর পেয়েই দমকলের গাড়িটি ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিধায়কের বাসভবনে পৌঁছানোর পর তাঁদের আসল কাজ না করে বাড়ির বাইরের দেওয়াল ও চত্বর ধুতে বলা হয়।

দেবগড় বারিয়া মিউনিসিপ্যালিটির সভাপতি ধর্মেশ কালাল জানিয়েছেন, কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাঁদের বাড়ি ধোওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা সেইমতো কাজ শুরুও করেন। তবে খবর পেয়ে ফায়ার চিফ তাঁদের অবিলম্বে কাজ বন্ধ করতে বলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে বিধায়কের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফায়ার অফিসার ময়ূর চৌহানও একই ঘটনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, একটি ফোনকল পাওয়ার পরই গাড়িটি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ার পর দমকল কর্মীদের অবিলম্বে সাফাই কাজ বন্ধ করতে বলা হয়।

জরিমানা আদায়ের পর কি বিতর্ক থামল?
মিউনিসিপ্যালিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার জেরে বিধায়ক বাচুবাই খাবাড়ের ছেলে বলবন্ত খাবাড়ের কাছ থেকে গাড়ি ব্যবহারের রসিদ কেটে ২,৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধায়কের বাসভবনে পৌঁছাতে ফায়ার টেন্ডারটিকে প্রায় ২৪ থেকে ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, একটি জরুরি পরিষেবার গাড়ি ও সরকারি যন্ত্রাংশ কীভাবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হল? শুধু তাই নয়, মাত্র ২৭০০ টাকা জরিমানা নিয়েই কি এই অপব্যবহারের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া ঠিক হল, নাকি এর নেপথ্যে আরও বড় কোনো প্রশাসনিক নিয়মভঙ্গের ঘটনা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছেন দেবগড় বারিয়া মিউনিসিপ্যাল প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *