‘জ্ঞানেশ নন, ভগবান গণেশ পাশে আছেন!’ ভোটচুরি বিতর্কে সম্বিত পাত্রর মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহাঝড়

ভোটচুরির অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার বিরোধীদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে দিল্লি। সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A) জোটের মিছিল এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির আবহে আসরে নেমেছেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন তিনি।

এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সম্বিত পাত্র বলেন, “যাঁরা বলছেন জ্ঞানেশ কুমারের উপর ভর করে লোকসভা নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি, তাঁরা সম্পূর্ণ মিথ্যে বলছেন।” এরপরই কিছুটা রসিকতার সুরে বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “জ্ঞানেশ নন, স্বয়ং ভগবান গণেশ বিজেপি-কে সাহায্য করছেন।”

বিরোধীদের তুলোধোনা সম্বিত পাত্রের
নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বিজেপি সাংসদ বলেন, “বিজেপির আমলে নির্বাচন কমিশনারদের নিযুক্তি যদি গণতন্ত্রের উপর আঘাত হয়, তাহলে কংগ্রেসের আমলে যে প্রাক্তন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিযুক্তি হয়, যেভাবে তাঁদের রাজ্যপাল পদ দেওয়া হয়, সেগুলোর অর্থ কী?” পাশাপাশি রাহুল গান্ধী ও সনিয়া গান্ধীকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, “আমরা যদি ভোটচুরি করে সাংসদ হয়ে থাকি, তাহলে ওঁরাও কি তবে একই ভাবে জিতেছেন?”

শুধু তাই নয়, বিরোধীদের এই আন্দোলনকে এক বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে সম্বিত দাবি করেন, দেশের উন্নয়ন রুখতে বিরোধী দলগুলি হয়তো বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

পালটা তোপ দেগেছেন মমতা-অভিষেক ও কংগ্রেস
সম্বিত পাত্রের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষের সুরে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে এখন ভগবান গণেশ বানাতে গেলে বুঝবে। রামমন্দিরের রাজনীতি করে ওরা অযোধ্যায় হেরেছে, এবার গণেশজীকে টানলে মহারাষ্ট্রেও হারবে।”

অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারিও বিজেপিকে একহাত নিয়ে বলেন, “যাঁরা ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দিয়েছেন, ফর্ম ৬-এর অপব্যবহার করেছেন, তাঁদের টিকিটে থাকা উচিত নয়। ভগবান গণেশের সঙ্গে জ্ঞানেশের এই তুলনা টেনে বিজেপি আসলে অধঃপতনের চরম সীমায় পৌঁছেছে। ভগবান গণেশই ওদের ছুড়ে ফেলে দেবেন।” সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন ও ভোটচুরি সংক্রান্ত এই তরজায় উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *