মানুষের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি DNA! প্রাণীজগতের রেকর্ড ভেঙে তাক লাগিয়ে দিল অদ্ভুত এই মাছ

প্রাণীজগতে DNA-র পরিমাণের দিক থেকে সমস্ত পূর্বের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আমেরিকার এক বিশেষ প্রজাতির মাছ। বিজ্ঞানভিত্তিক পত্রিকা Science-এ প্রকাশিত একটি গবেষণার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই বিশেষ মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘সাউথ আমেরিকান লাং ফিশ’ (Lepidosiren paradoxa)। গবেষকদের দাবি, এই মাছটির জিনোমে রয়েছে প্রায় ৯১ বিলিয়ন DNA, যা মানুষের জিনোমের পরিমাণের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি! তবে বিজ্ঞানীদের মতে, DNA-র পরিমাণ বেশি থাকলেই যে কোনো প্রাণী বেশি উন্নত বা জটিল হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই মাছের জিনোমে থাকা বিপুল পরিমাণ DNA-র বেশির ভাগ অংশের কার্যকারিতা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

এত বিশাল জিনোমের রহস্য কোথায়?

গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, এই লাং ফিশের জিনোমে প্রায় ৯১ বিলিয়ন DNA বেস (A-T-G-C) রয়েছে, যেখানে মানুষের জিনোমে রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ বিলিয়ন বেস। তবে সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বিশাল জিনোম থাকা সত্ত্বেও এই মাছের জিনের সংখ্যা মানুষের মতোই প্রায় ২০ হাজার!

বিজ্ঞানীদের মতে, এই মাছের জিনোমের প্রায় ৯০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে পুনরাবৃত্ত DNA বা ‘ট্রান্সপোজ়েবল এলিমেন্টস’। এগুলি মূলত DNA-র এমন কিছু অংশ, যা নিজে থেকেই অনুলিপি তৈরি করে জিনোমের অন্য অংশে প্রবেশ করতে পারে। তুলনামূলকভাবে মানুষের জিনোমের মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ এই ধরনের পুনরাবৃত্ত অংশ দিয়ে তৈরি।

কেন এত বড় হলো এই মাছের জিনোম?

গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার লাং ফিশের শরীরে এমন কিছু বিশেষ জিনের ঘাটতি রয়েছে, যেগুলি সাধারণত এই পুনরাবৃত্ত DNA-র বিস্তার বা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই নিয়ন্ত্রণহীনতার ফলেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরে DNA-র পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিবর্তনের রহস্য উদঘাটনে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

লাং ফিশকে অনেক সময়ই ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। জলের পাশাপাশি সরাসরি বাতাস থেকেও অক্সিজেন নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে এদের। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মাছ থেকে স্থলচর প্রাণীদের বিবর্তন ঠিক কীভাবে হয়েছিল, তার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে এই লাং ফিশের জিন বিশ্লেষণের মধ্যেই।

যদিও এই বিশাল পরিমাণ DNA থাকার ফলে কোষের নিউক্লিয়াস আকারে অনেক বড় হয় এবং এই বিপুল পরিমাণ DNA প্রতিলিপি (Replication) তৈরি করতে প্রাণীটির অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তবুও এই নতুন আবিষ্কার জিনোমের বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানজগতে সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *