ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রেজিনগরে চরম উত্তেজনা! মাঝপথ থেকে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করল পুলিশ, তলব কমিশনের

উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়েছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) দলীয় কার্যালয় থেকে আটক করে সরাসরি থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ বচসার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। এদিকে ভোটের দিন সকালে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

ঠিক কী ঘটেছিল রেজিনগরে?
এদিন সকাল সকাল সপরিবারে শক্তিপুরে নিজের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন হুমায়ুন কবীর। এরপর তিনি রেজিনগরে নিজের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন। সেখান থেকে দলীয় প্রার্থীর কাজের তদারকি করতে এবং অন্যান্য কয়েকটি বুথে যাওয়ার চেষ্টা করতেই বাঁধে বিপত্তি। অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে নির্দিষ্ট এলাকায় যেতে বাধা দেয়। এর পরেই গাড়ি থেকে নেমে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিধায়ক। শুরু হয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর তীব্র কথা কাটাকাটি ও বাদানুবাদ। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে জোর করে গাড়িতে তোলে এবং রেজিনগর থানায় নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করে।

বিজেপিকে নিশানা ও বিস্ফোরক অভিযোগ হুমায়ুনের
গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন নওদার বিধায়ক। বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, ভোটের আগে পুলিশকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুমায়ুন বলেন, “ওরা ভোটের আগে পুরোপুরি ভয় পেয়ে গেছে, তাই এখন পুলিশের সাহায্য নিয়ে সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করছে। আমাদের দলের ৬৪ জন সমর্থককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছু করেও বিজেপি ভোট পাবে না। ওরা যত হামলা চালাবে, ততই ওদের ভোট কমবে।” একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও হিংসামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি পুলিশেরও নিরপেক্ষ দায়িত্ব থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কেন এই উপনির্বাচন?
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর এবং নওদা—এই দুটি কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে নতুন করে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। বর্তমান উপনির্বাচনে তিনি নিজের দল থেকে ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করেছেন। এর আগে গত বিধানসভা নির্বাচনে এই রেজিনগর থেকেই প্রায় ৫৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন। আপাতত নির্বাচন কমিশনের তলবে প্রশাসন কী রিপোর্ট দেয় এবং বাকি দিনটিতে রেজিনগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *