‘আপনার আসল জায়গা জেল!’ চেক বাউন্স মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনার মুখে রাজপাল যাদব

পর্দায় কমেডি চরিত্রে অভিনয় করে যিনি কোটি কোটি মানুষকে হাসাতে পারেন, বাস্তব জীবনে সেই জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)-এর মুখে এখন আর হাসির লেশমাত্র নেই। আইনি জটিলতা যে তাঁর জীবনে জাঁকিয়ে বসেছে, তার প্রমাণ মিলল ফের একবার। পুরনো একটি চেক বাউন্স মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে রীতিমতো তুলোধোনা হতে হলো তাঁকে। শীর্ষ আদালত এদিন অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এই অভিনেতার আসল জায়গা নাকি জেলেই!

আদালতে ঠিক কী ঘটেছে?
‘মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থার দায়ের করা চেক বাউন্স মামলাটি গত কয়েক বছর ধরেই চলছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রাজপালকে ২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সোমবার সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অভিনেতা সম্পূর্ণ টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হন।

শুনানির সময় রাজপালের আইনজীবী আদালতের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করে বলেন, “যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা তো আর গরিব নন।” এই যুক্তি ও মন্তব্য শুনেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। রাজপালের আইনজীবীকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বিচারপতি সাফ জানান, “অভিযোগকারীরা হয়তো আপনাদের চেয়েও অনেক বড়লোক হতে পারেন। কিন্তু রাজপাল তাঁদের যে পরিমাণ টাকা ঠকিয়েছেন, সেই দিক থেকে তাঁরা ভুক্তভোগী। আপনাদের এই অতিরিক্ত অহংকার এবার ভাঙা দরকার। আদালতে দাঁড়িয়ে কখন কী কথা বলতে হয়, সেটা আপনার আইনজীবীর জানা উচিত ছিল।”

এরপর সরাসরি অভিনেতা রাজপালের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিচারপতি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আপনার আসল জায়গা তো জেলে!”

কীসের এত বকেয়া টাকা?
এই আইনি বিবাদের সূত্রপাত সুদূর ২০১০ সালে। একটি সিনেমার কাজের জন্য মুরলি প্রজেক্টসের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য হিসেবে নিয়েছিলেন রাজপাল। অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে সেই ঋণ মেটানোর জন্য ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকার সাতটি চেক দিয়েছিলেন তিনি, যার প্রতিটাই বাউন্স করে। অভিযোগকারীর আরও দাবি, ২০১২ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী রাধা সুদ সুদের টাকাসহ প্রায় ১১ কোটি টাকা মেটাতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি।

টাকা না মেটানোর এই অভিযোগেই এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট রাজপালকে জেলের সাজা শুনিয়েছিল। আর্থিক এই বিবাদের জেরে তিনি অতীতে সাড়ে চার মাস জেলেও কাটিয়েছেন। পরবর্তীতে বিনোদন জগতের বন্ধুবান্ধবদের সাহায্যে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এদিকে সোমবারের শুনানিতে অভিনেতার আইনজীবী ৫০ লক্ষ টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফট আদালতে পেশ করেন এবং জানান যে সেটি বর্তমানে ব্যাঙ্কে প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু আদালত প্রশ্ন তোলে, এই ড্রাফট আদৌ আসল কি না। অন্যদিকে, অভিযোগকারীর আইনজীবী অজিত সিনহা আদালতে অভিযোগ করেন যে, অভিনেতা আদালতেও অভিনয় করছেন এবং আদালতের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র সম্মানবোধ নেই। আদালত মঙ্গলবার পর্যন্ত টাকা মেটানোর শেষ সুযোগ দিলেও, বুধবার এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *