জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে এবার সরাসরি পথে নামছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট! সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত বিশাল মিছিল

বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী জোট কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও, নতুন এক রাজনৈতিক ইস্যুতে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে অনিয়ম ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জোরালো বিতর্কের জেরে এবার সরাসরি রাস্তায় নামছে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Alliance) জোট। আজ, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই রাজধানীতে শুরু হয়েছে বিরোধী সাংসদদের এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদ মিছিল। সংসদ ভবন থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল গিয়ে শেষ হওয়ার কথা জাতীয় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত।
মিছিলের রুট ও তারকা মুখ
জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে দশটায় সংসদের মকরদ্বার থেকে এই প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের এই কর্মসূচিতে প্রথম সারিতেই উপস্থিত রয়েছেন সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি, এই হাইপ্রোফাইল মিছিলে পা মেলাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
তবে এই জোরালো প্রতিবাদ মিছিলে আম আদমি পার্টি (AAP) এবং ডিএমকে (DMK)-র সাংসদরা অংশ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে, আগের বৈঠকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় উপস্থিত থাকতে না পারলেও, আজকের এই অভিযানে সামিল হতে পারেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব।
তবে এই মিছিলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজপথ। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, সংসদ চত্বর ছাড়লেই বিরোধীদের এই মিছিল আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংসদ চত্বরের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী, ব্যারিকেড এবং র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিরোধীরা ব্যারিকেড ভেঙে কতটা এগোতে পারেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
কংগ্রেসের দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান
নির্বাচন কমিশন বিরোধী এই আন্দোলনের আঁচ দেশজুড়ে জিইয়ে রাখতে আগামী শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত টানা একগুচ্ছ বড় সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কংগ্রেস।
১০ থেকে ২০ অক্টোবর: দেশের প্রতিটি ব্লকে ‘ভোট বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সাইকেল ও মোটরবাইক র্যালি করা হবে। কর্মসূচি শেষে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রচার ও লিফলেট বিলি: সাধারণ মানুষকে ভোট চুরি ও কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত করতে বুথ স্তরে লিফলেট বিলি করবেন কংগ্রেস কর্মীরা।
২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর: প্রতি বুথে ‘সেভ ভোট, সেভ কান্ট্রি’ (Save Vote, Save Country) স্লোগানকে সামনে রেখে চৌপল বৈঠক ও ছোট জমায়েত করা হবে, যেখানে বক্তব্য রাখবেন দলের শীর্ষ নেতারা।
পয়লা নভেম্বর: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের মেগা জনসভায় কংগ্রেস কর্মীদের ব্যাপক জমায়েতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৫ ও ২৬ নভেম্বর: দিল্লি সংলগ্ন ৬টি আলাদা জায়গা থেকে শুরু হবে ৬টি ‘দিল্লি চলো’ মিছিল। প্রবীণ কেন্দ্রীয় নেতারা এই মিছিলগুলির নেতৃত্ব দেবেন।
২৬ নভেম্বর: সংবিধান দিবসে এই ৬টি মিছিল একত্রিত হয়ে দিল্লিতে একটি বিশাল জনসভার মাধ্যমে তাদের এই দীর্ঘ কর্মসূচি শেষ করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লি ও মুম্বইতে তীব্র বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সেই বিক্ষোভে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটকও করেছিল পুলিশ। আজকের এই নতুন মিছিল এবং কংগ্রেসের পরবর্তী কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে যে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।