আগামী দিনগুলিতে কি আকাশছোঁয়া হবে খাবারের দাম? বিশ্বজুড়ে আসন্ন বড় বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ কেন্দ্রের!

বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা! চরম সতর্কবার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন
আন্তর্জাতিক স্তরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে ক্রমাগত বিঘ্ন ঘটার জেরে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্য সঙ্কটের কালো মেঘ ঘনাচ্ছে। সম্প্রতি মিউনিখ লিডার্স মিটিংয়ে বক্তব্য রাখার সময় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক সতর্কবার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তাঁর এই বক্তব্যে বিশ্ব অর্থনীতি এবং খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী, বাব-আল-মানদেব এবং মালাক্কা প্রণালীর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটগুলিতে যদি কোনো কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়, তবে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। কারণ এই রুটগুলির মাধ্যমেই মূলত জ্বালানি থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে পরিবাহিত হয়।
সতর্কবার্তার মূল বিষয়গুলি:
-
সামুদ্রিক রুটে বিঘ্নের প্রভাব: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুটগুলিতে অস্থিরতা তৈরি হলে সার ও কৃষি উপকরণের জোগান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
-
সার আমদানি ও খরচ বৃদ্ধি: উচ্চ পরিবহন খরচ, জাহাজের স্বল্পতা এবং আকাশছোঁয়া বিমা প্রিমিয়ামের কারণে সার আমদানি প্রক্রিয়া বর্তমানে যথেষ্ট কঠিন হয়ে উঠেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদনের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।
-
ভারতের প্রস্তুতি: দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষি উৎপাদন ও সার সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউরিয়া ও ফসফেটের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিপিং ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠনের মতো জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে বাড়তে থাকা এই বহুমুখী চাপ শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।